টিনের ছোট্ট ঘর থেকেই বিশ্বজয় করলো রাকিবুল

প্রকাশিত হয়েছে

প্রাণেরদেশ ডেস্ক :   রাকিবুল হাসান। অনেকের কাছে অপরিচিত থাকলেও গত দুইদিনে তিনি বিশ্বব্যাপী আলোচনায়। টিনের ছোট্ট একটি ঘর থেকে এসে বিশ্বজয় করে বাংলাদেশের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখালেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের এ খেলোয়াড়।

রাকিবুলের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউপির বাশাটি গ্রামে। জয় উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণসহ বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল হয়েছে। তাকে নিয়ে সর্বত্রই বইছে আলোচনার ঝড়।

স্থানীয়রা জানায়, রাকিবুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে থাকেননি। তার বাবা শহীদুল ইসলাম ঢাকায় থাকেন। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক। পরিবার নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। তবে বছরে কয়েকবার গ্রামে বেড়াতে আসেন তারা।

রাকিবুলের গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, টিনের ছোট্ট পুরনো ঘরে কেউ না থাকায় রাকিবুলের ফুফা কামাল হোসেন পরিবার নিয়ে থাকেন। এ সময় রাকিবুলের ফুফু রোখসানা খাতুন বলেন, রাকিবুল বেশি পড়তে চাইত না। সুযোগ পেলেই ক্রিকেট খেলায় লেগে যেত। এজন্য আমরা বিরক্ত থাকলেও দেশের মুখ উজ্জ্বল কনায় খুবই আনন্দিত।

গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাকিবুল যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন, এ খবর টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জানে গ্রামবাসী। বিশেষ করে কিশোররা বেশি খবর রেখেছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মানুষ রূপসী বাজারে গিয়ে রাকিবুলের খেলা দেখেছে।

গ্রামে ঢুকতেই দেখা হয় মিজান, এবাদুল, শাহরিয়ার ও মামুন মিয়ার সঙ্গে। তারা চারজনই রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের ছেলের এমন কৃতিত্বে তারাও বেশ খুশি।

তারা জানায়, রাতে বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ হলেও পরিবারের অনুমতি নিয়ে রোববার রাতে রূপসী বাজারে গিয়ে খেলা দেখেছে। টানা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজয়ের শেষ রানটা আসে রাকিবুলের ব্যাট থেকে। এ আনন্দের ঘোর কাটছেই না তাদের। রাতেই গ্রামের মানুষ রাকিবুলের দলের জয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।

গ্রামের মানুষের এ আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিতে চান রাকিবুলের বাবা শহীদুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে দেশে এলেই গ্রামে আসব। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগাভাগি করব।

Calendder

October 2020
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

%d bloggers like this: