নিজস্ব প্রতিনিধি : রূপগঞ্জে অজ্ঞাত (৩২) যুবকের লাশ উদ্ধার করেছেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া বটতলা খেয়াঘাট এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করা হয় । বিষয়টি নিশ্চিত করেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম জানান, নোয়াপাড়া এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে

 নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপগঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের অপরাধে দুই বখাটে যুবককে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৬৫ ধারা মোতাবেক দুই বখাটেকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলো, মুড়াপাড়া শিবগঞ্জ গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে তানজিল আহম্মেদ রানা ও মুড়াপাড়া মাহমুদাবাদ গ্রামের জাহিদের ছেলে ওবায়দুল।

জানা যায়, ডেমরা বাওয়ানী আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন তরুণ রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি (মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়) ঘুরতে আসে।

এ সময় রানা ও ওবায়দুল নামে দুই যুবক তাদের আটক করে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন কড়ে নেয় এবং শারীরিক নির্যাতন করে।

পরে উক্ত তিন শিক্ষার্থী রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করে।

ইউএিনও মমতাজ বেগম বলেন, মুড়াপাড়া এলাকায় সাজাপ্রাপ্ত দুই যুবক প্রায় সময় এমন ঘটনা ঘটায়।

কিন্তু তথ্যাভাবে আমরা এ বিষয়ে তেমন কিছু করতে পারছিলাম না। কিন্তু আজ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সরাসরি আমার কাছে আসায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সমর্থ হই। গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবককে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৬৫ ধারা ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

প্রাণেরদেশ ডেস্ক :   রাকিবুল হাসান। অনেকের কাছে অপরিচিত থাকলেও গত দুইদিনে তিনি বিশ্বব্যাপী আলোচনায়। টিনের ছোট্ট একটি ঘর থেকে এসে বিশ্বজয় করে বাংলাদেশের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখালেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের এ খেলোয়াড়।

রাকিবুলের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউপির বাশাটি গ্রামে। জয় উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণসহ বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল হয়েছে। তাকে নিয়ে সর্বত্রই বইছে আলোচনার ঝড়।

স্থানীয়রা জানায়, রাকিবুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে থাকেননি। তার বাবা শহীদুল ইসলাম ঢাকায় থাকেন। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক। পরিবার নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। তবে বছরে কয়েকবার গ্রামে বেড়াতে আসেন তারা।

রাকিবুলের গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, টিনের ছোট্ট পুরনো ঘরে কেউ না থাকায় রাকিবুলের ফুফা কামাল হোসেন পরিবার নিয়ে থাকেন। এ সময় রাকিবুলের ফুফু রোখসানা খাতুন বলেন, রাকিবুল বেশি পড়তে চাইত না। সুযোগ পেলেই ক্রিকেট খেলায় লেগে যেত। এজন্য আমরা বিরক্ত থাকলেও দেশের মুখ উজ্জ্বল কনায় খুবই আনন্দিত।

গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাকিবুল যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন, এ খবর টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জানে গ্রামবাসী। বিশেষ করে কিশোররা বেশি খবর রেখেছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মানুষ রূপসী বাজারে গিয়ে রাকিবুলের খেলা দেখেছে।

গ্রামে ঢুকতেই দেখা হয় মিজান, এবাদুল, শাহরিয়ার ও মামুন মিয়ার সঙ্গে। তারা চারজনই রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের ছেলের এমন কৃতিত্বে তারাও বেশ খুশি।

তারা জানায়, রাতে বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ হলেও পরিবারের অনুমতি নিয়ে রোববার রাতে রূপসী বাজারে গিয়ে খেলা দেখেছে। টানা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজয়ের শেষ রানটা আসে রাকিবুলের ব্যাট থেকে। এ আনন্দের ঘোর কাটছেই না তাদের। রাতেই গ্রামের মানুষ রাকিবুলের দলের জয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।

গ্রামের মানুষের এ আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিতে চান রাকিবুলের বাবা শহীদুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে দেশে এলেই গ্রামে আসব। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগাভাগি করব।