শিরোনাম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে ৪র্থ ও ৫ম দফায় ৬ দিনের অভিযানে ৩০ টি ইটভাটার দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৬ দিনের অভিযানকালে জব্দকৃত ইট বালু ও কয়লা প্রায় ৪৫ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।

৬ দিনে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০ একর জমি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ৫ম দফায় তৃতীয় দিনে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত রূপগঞ্জে উপজেলার খৈসাইর ও লক্ষ্যা শিমুলিয়া এলাকায় নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে অভিযান চলে।

এসময় এনএসটি ব্রিকফিল্ড, বিএবি ব্রিকফিল্ড ও এসএসবি ব্রিকফিল্ডসহ কয়েকটি ইটভাটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভরাটকৃত অংশ অবমুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এসময় জব্দকৃত ইট বালু ও কয়লা ১০ লাখ ৫২ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিমের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল, উপ-পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজসহ বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া একটি ভেকু, জাহাজ অগ্রপথিক, একটি টাগবোট, একটি স্পীডবোট, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য, উচ্ছেদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিম জানান, গত ৬ দিনের অভিযানে ৩০টি ইটভাটার অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইটভাটাগুলো প্রতি বছরই তাদের অব্যবহৃত ইট, খোয়া, ডাস্ট ফেলে ৮-১০ ফুট দখল করে আসছে।

এতে ১০ বছরে প্রতিটি ইটভাটা নদীর বিপুল পরিমাণ জমি দখল করেছে। এছাড়া কালো ধোয়া নির্গত করে ইটভাটাগুলো পরিবেশ দূষণ করছে। অপরদিকে বড় বড় কোম্পানীগুলো যারা দেশের নেতৃত্ব দেয় তারাও নদী দখলে মেতে উঠেছে।

তাদের দখলদারিত্বে নদীর স্বাভাবিক গতি নষ্ট হচ্ছে। তাদের বর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। সীমানা পিলার সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু সীমানা পিলার দখলদাররা রাতের আধারে নদীর মধ্যে ফেলে গেছে।

কিছু আরএস রেকর্ড অনুযায়ী স্থাপন করা হয়েছিল। তবে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সিএস জরিপ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি।

নদী দখলদাররা যত প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের কোন ছাড় নেই।দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর এবং ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা ৬ দিনের অভিযানে লক্ষ্যা শিমুলিয়া ।

বেলদী ও খৈসাইর এলাকায় প্রায় ৩০ টি ইটভাটা ছাড়াও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, হ্যামকো ব্যাটারি, হানজালা টেক্সটাইল, রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড, এস এস ফুডের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

 

স্টাফ রিপোর্টার :  ১০ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে প্যারাডাইজ টাওয়ার ঘেরাও করেছেন শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন।সকাল ৯টা থেকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকে শ্রমিকরা।

মিছিল নিয়ে সাড়ে ১০টায় প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনে এসে পৌছায়। প্রথমেই পুলিশী বাধার মুখে পড়ে সমাবেশটি। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণভাবেই বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।

উক্ত কর্মসূচি চলাকালে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক দেলোয়ারের সভাপতিতে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা দুলাল সাহা, শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম গোলক, শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন, মো. ইউসুফ , রুবেল, কাইয়ুম, সুফিয়া, নিলুফা, ডালিম, আনোয়ার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আজকের আন্দোলনের মাধ্যমে যদি মালিকপক্ষ আলোচনায় বসে সংকট সমাধান করেন ভালো, না হয় প্রয়োজনে আমরা মালিকের বাড়ি পর্যন্ত ঘেরাও করবো। আমরা কিছুতেই পিছু হটবো না। প্রয়োজনে রাজপথে লড়াই করেই মরবো তাও পিছু হটবো না।
মালিককে বলতে চাই আমাদের বকেয়া পাওনা দিন, না হয় কঠিন, কঠোর লড়াই সংগ্রামের মোকাবেলা আপনাকে করতে হবে। তার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯ টায় ফতুল্লায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের সামনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 প্রাণেরদেশ ডেস্ক :  পেঁয়াজের ঊর্ধ্বগতিতে বাড়তে বাড়তে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছে।   কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না পেঁয়াজের বাজার। নানা পদক্ষেপের পরও পেঁয়াজের দামের পাগলা ঘোড়ার রাস কিছুতেই টেনে ধরতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে দামের বাজারে পেঁয়াজ পৌঁছেছে নতুন মাইলফলকে। আজ বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৭০ থেকে ১৮০। আর দেশী পেঁয়াজের দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা।

এর আগে বুধবার প্রতিকেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোথাও কোথাও একই মানের পেঁয়াজ ১৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া মিয়ানমারের ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, মিসরের ১৩০ টাকা এবং তুরস্ক থেকে আনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। অথচ গত মঙ্গলবারও এসব পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম ছিল।

পেঁয়াজের এমন লাগামহীন দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। পেঁয়াজের বাজার কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন সেই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে পেঁয়াজ কেনার পরেও দেশে কোন অজুহাতে এত দাম সে প্রশ্নও তুলছেন তারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তাদের।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সবসময়ই সুযোগসন্ধানী।

অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই তা লুফে নেন। সেটি যৌক্তিক না অযৌক্তিক, সে বিষয়ে মাথা ঘামান না-এটি ঘোর অন্যায়। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তারা।

মোঃ রবিউল আউয়াল রবি : সারা দেশে জঙ্গী, সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ হলেও এখনও কিছু রয়েছে। যা চিরতরে নির্মূলে কাজ করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন মাঠে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নানা দিক দিয়ে। প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে গ্রামে গঞ্জে। ভবিষ্যতে এর আরো বিস্তারিত লাভ করবে।

পুলিশের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সাধারন মানুষ এক সময় পুলিশকে ভিন্ন চোখে দেখলেও পুলিশ তাদের সেবা দিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে ভুল ভ্রান্তি দূর করতে সচেষ্ট্য হয়েছেন। অনলাইনে সাধারন মানুষ পুলিশিং সুবিধা পাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

এর আগে মন্ত্রী ফিতা কেটে পুলিশ লাইন মাঠে চেতনায় অম্লান ভাস্কর্য, কোতোয়ালী মডেল থানা ও ভালুকা মডেল থানা অনলাইন জিডির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন ও জেলা পুলিশের মোবাইল এপ্লিকেশনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

ময়মনসিংহ-৯ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন, ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য কাজীম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মনি।

শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল ইসলাম খোকা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.এইচ.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশকে সফল করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে সকাল থেকেই মিছিল আসতে শুরু করে পুলিশ লাইন মাঠে।

 রবিউল আউয়াল রবিঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা সমীর কুমার চক্রবর্তী অফিসে বসেই ইয়াবা সেবন করছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে উপজেলাসহ জেলার সর্বত্র।

সমালোচনার ঝড় বইছে স্থানীয় প্রশাসনের ভিতরে-বাইরে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সমীর কুমার চক্রবর্তী অফিসের চেয়ারে বসে ইয়াবা সেবন করছেন। সহযোগীতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পাশে থাকা অচেনা এক ব্যক্তি।

তবে ইয়াবা সেবন বিষয়ে জানতে চাইলে সমীর কুমার চক্রবর্তী বলেন, ওই বিষয়ে আমার কোন কথা নেই। আমি কিছু দেখতেও চাই না। জানা যায়, বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সুত্রধরের নেতৃত্বে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক।

এ সময় খোদ ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী সমীর কুমার চক্রবর্তীর ইয়াবা সেবনের অভিযোগসহ অনিয়ম-দূর্নীতির নানান অভিযোগ তুলে ধরে দুদক কর্মকর্তাদের কাছে বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা জানায়, ২০১০ সালের ১২০৭ নং একটি মোকাদ্দমার ডিসিআর কাটতে টাকা দাবির অভিযোগে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে অভিযান চালালে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির প্রমান মিলে। অফিসের কার্যক্রমের খাতাপত্রে সঠিক কোন রেকর্ডপত্র নেই।

অনেক কাজের অনুমোদন থাকলেও কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই বা সিল নেই। অফিসের রেজিষ্ট্রারে এর প্রমান রয়েছে।

এসব অনিয়ম-দূর্নীতির বেশকিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অনেকের বক্তব্য গ্রহন করা হয়েছে। তবে ভূমি অফিসের অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে মূলহোতা নাজির রুখতিয়ার উদ্দিন রুকন ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার(ভূমি) তৃপ্তি কণা মন্ডল।

প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা সমীর কুমার চক্রবর্তী, নাইট গার্ড মিনুয়ারা, অফিস সহকারী আরিফ রব্বানীসহ বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে পরবর্তী এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে মাদক সেবনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দেখবেন। অফিস সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৃপ্তি কণা মন্ডল বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে এসব বিষয়ে একাধিকবার জানতে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এবিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ভিডিও দেখে পরে কথা বলব।

দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করছি। ইনশাল্লাহ, প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করবো। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ কখনো পেছনে টানতে পারবে না। আমরা ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছি। এবার সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের মূল শত্রু কে? আমি বলতাম, আমাদের মূল শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য। কাজেই দারিদ্রের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়তে হবে। দারিদ্রের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।
‘দারিদ্র বিমোচন করা, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। সব সময় একটাই প্রচেষ্টা নিয়েছি যে, দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে কী কী করা যায়। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমাদের কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করি। তারই ধারাবাহিকতায় কাজ করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ সালে দেশে দারিদ্যের হার ছিল ৪১ ভাগ। আজ তা ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এটাকে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ ভাগের মধ্যে আমরা নিয়ে আসতে চাই। বাংলাদেশ যেন আর দরিদ্র না থাকে, বাংলাদেশ যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে পারে, সেভাবে আমরা একটা হিসাব করেছি। ইনশাল্লাহ, আমরা তা করতে পারবো।
সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দরভাবে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে, সেই পরিকল্পনাও আমরা তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে, এটা ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যাবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। ২০৭১ সালে আমি যখন বেঁচে থাকবো না, যারা থাকবে তারা এমন একটা দেশ পাবে, ঠিকই সোনার বাংলার নাগরিক হবে। ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান করেছি। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতির উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই যে, বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল এই দেশকে তিনি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়বেন। শুধু ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত করা নয়, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সঙ্গে চলবে।
‘আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে। কারণ, এ সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া।’
বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ পৃথিবীর সব জায়গায় একটা কথাই বলে, বাংলাদেশ উন্নয়নের বিস্ময়। আমাকেও অনেকে জিজ্ঞেস করে, এই যে এত দ্রুত উন্নয়ন করলেন, ম্যাজিকটা কী? আমার এখানে উত্তর খুব পরিষ্কার, ম্যাজিক বলে কিছু নেই। দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা আর নিজের দেশকে জানা, নিজেদের দেশের জন্য কাজ করা। আমরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করছি।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, নারীদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা, দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কৃষকদের সার ও কৃষি উপকরণগুলো সহজলভ্য করা, ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ, গৃহায়ণ তহবিল থেকে দরিদ্রদের সহায়তা, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করাসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিটি মানুষের আবাসন নিশ্চিতে সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষকে আমরা থাকার জায়গা করে দেবো। আমাদের হিসাব রয়েছে, কোন এলাকায় কত মানুষ গৃহহারা। তাদের আমরা ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।
বস্তিবাসীদের জন্য সরকারের ঘরে ফেরা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে যত বস্তি রয়েছে, এগুলো আমি সার্ভে করিয়েছিলাম। তারা যদি নিজের গ্রামে ফিরে যেতে চায়, আমরা ঘর তৈরি করে দেবো, ছয় মাস ভিজিএফের মাধ্যমে বিনা পয়সায় খাদ্য দেবো। তারা নিজের গ্রামে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে না।
তিনি বলেন, আমি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছি ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি। সেভাবে তাদের পুনর্বাসনের একটা উদ্যোগ আমরা নিয়েছিলাম, দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে তুলে আনার সেই চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।
মতিয়া চৌধুরীর হাতে সম্মাননা তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
পিকেএসএফ-এর অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু, এক সময় ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কার্যক্রমই ছিল এর প্রধান কাজ। আমরা একে ক্ষুদ্রঋণের গণ্ডি থেকে বের করে এনেছি। সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে পিকেএসএফ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পিকেএসএফ বর্তমানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে দেশে-বিদেশে একটি শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি বহুমুখী কাজ করছে।
১ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে পিকেএসএফ বিভিন্ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই ফাউন্ডেশন দেশের ২০২টি ইউনিয়নে ‘সমৃদ্ধি’ নামক কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষাসহ জীবন-জীবিকা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বিত করে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বয়স্ক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবায়ন করছে ‘প্রবীণ কর্মসূচি’।
‘তাছাড়া, দেশের কৃষি খাতে আর্থিক পরিষেবার পাশাপাশি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজার সংযোগসহ কৃষির বিভিন্ন উপখাতের ভ্যালু চেইন ও দক্ষ উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করার মাধ্যমে পিকেএসএফ দেশের অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এখন পুষ্টির দিকে নজর দিয়েছি। এক্ষেত্রে পিকেএসএফ বিরাট অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। শুরুতে পিকেএসএফ জাগরণের গান পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এ বছর পিকেএসএফ-এর আজীবন সম্মাননা পান সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রফিকুল ইসলাম রাফি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ৫ম দফায় দ্বিতীয় দিনে দখলকারী এনার্জিপ্যাক হ্যামকোসহ আরো অর্ধশতাধীক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার খৈসাইর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত ইট, বালু ও কয়লা মোট প্রায় ২৫ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।

অনুমোদনের বাইরে নদী ভরাট ও দখল করায় এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড নামের কারখানাকে নগদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিমের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল, উপ-পরিচালক মো: শহীদুল্লাহসহ বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া একটি ভেকু, জাহাজ অগ্রপথিক, একটি টাগবোট, একটি স্পীডবোট, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য, উচ্ছেদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, রূপগঞ্জের খৈসাইর এলাকার নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগে সাব্বিরের মালিকানাধীন এএসবি ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি, সিদ্দিকুর রহমানের মালিকানাধীন জিএসবি ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু কয়লা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি।

হারিজুলের মালিকানাধীন এসএনআর ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু কয়লা ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি, শরীফের মালিকানাধীন এমএনবি ১ ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু কয়লা ৩ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি।

নাদিমের মালিকানাধীন এমএনবি২ ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু ৬০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি, সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন বিআইপি ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।

খৈসাইর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে লোড আনলোডের জন্য এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড নামের কারখানাটি ভাসমান জেটি নির্মাণের অনুমোদন নিলেও নদী ভরাট ও দখল করে নির্মান কাজ করছিল।

পরে কারখানাটির মালিকপক্ষকে নগদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত বালু ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। এসময় এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড নামের কারখানাটির কর্তৃপক্ষ মুচলেকা দেন আগামী ২ মাসের মধ্যে ভরাটকৃত অংশ খননের মাধ্যমে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

পরে সাকিলউদ্দিনের মালিকানাধীন এমকেবি ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু কয়লা ৪ লাখ ৮ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি, যুবলীগ নেতা এসটি সাত্তারের মালিকানাধীন এসটিএ ব্রিকফিল্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত ইট বালু কয়লা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি, হ্যামকো ব্যাটারীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জব্দকৃত বালু কয়লা ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিম জানান, নদী দখলদাররা যত প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের কোন ছাড় নেই। দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।