প্রাণেরদেশ ডেস্ক :    হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। এর মাঝে আবার ঘি ঢেলেছে ভারত। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণে দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দুইগুণের বেশি। এ অবস্থায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে  উচ্চ পর্যায়ের ১০জন কর্মকর্তা ১০ জেলায় বাজার মনিটরিং শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জেলাগুলো হচ্ছে- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, দিনাজপুর, পাবনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ ও শরীয়তপুর।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিনে সুদের হার হ্রাস, স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে পেঁয়াজ  অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও বিভিন্ন হাট-বাজারে দ্রুত পরিবহন নির্বিঘ্ন করার  জন্য  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া ভোমড়া, সোনা মসজিদ, হিলি এবং বেনাপোল স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন করতে সব পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলা প্রশাসন থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এলসি’র মাধ্যমে মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বন্দরে খালাশ করা শুরু হয়েছে। মায়ানমার থেকে বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি করা পেঁয়াজ এবং  দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি হাটগুলোতে বিক্রি করা পেঁয়াজ দ্রুত সারাদেশে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি শুরু করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিকেজি ৪৫ টাকা মূল্যে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়। মঙ্গলবার এ ট্রাক সেলের সংখ্যা ৩৫ টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এতে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাচ্ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
সরকারি হিসাব মতে, দেশে বছরে মোট পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩.৩০ লাখ মেট্রিক টন। তবে এর ৩০ শতাংশই স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয়। এর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বছরে আমদানি হয়ে থাকে ৮ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন।

প্রাণেরদেশ ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার তিনদিনের মাথায় আবারও ছুটতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চারদিনের সফরে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সকালে তিনি নয়াদিল্লি পৌঁছাবেন। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিতে এ সফর হলেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। ৩ ও ৪ অক্টোবর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতসহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি তুলে ধরবেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে। জানাবেন বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার সরকারের সাফল্যের কথাও।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

ভারতের তিনটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ নেতাদের সঙ্গে শুক্রবার যৌথভাবে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ভারতের বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগেরও আহ্বান জানাবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যকার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

এদিন সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। একই দিন বিকেলে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।

শুক্রবার শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে ভারত সফররত সিঙ্গাপুরের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী হেং সুয়ে কেটের।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রোববার ভারতের কংগ্রেস পার্টির প্রধান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠক করার কথা বলা হয়েছে।

এদিন ভারতের প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শ্যাম বেনেগাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মভিত্তিক ফিচার ফিল্ম তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজিত বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র মুজিববর্ষ ২০২০-২১ শেষ হওয়ার আগে মুক্তি পাবে।

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে একটি মোটরসাইকেলকে যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে শাহানশাহ (৩০) নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে এলাকাবাসী বাসটি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে এবং মহা সড়কটি অবরোধ করে রাখে। কটিয়াদী থানার ও হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ এক ঘণ্টা চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শাহানশাহ কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঘিলাকান্দি গ্রামের ফারুকে আজমের ছেলে ও কিশোরগঞ্জ আদালতের আইনজীবী।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জ কোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেন শাহানশাহ। পথে মহাসড়কের মধ্যপাড়া নামক স্থানে অনন্যা সুপার নামের যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এ খবরে এলাকাবাসী বাসটি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে এবং মহা সড়কটি অবরোধ করে রাখে। পরে পরিবহনের মালিক সমিতির নেতারা ঘটনাস্থলে এসে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর কটিয়াদী থানার ও হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ এক ঘণ্টা চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাইওয়ে ফাড়িঁর ইন চার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার বলেন, ঘটনার পর চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। বাসটি আটক করা হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক, প্রাণের দেশ :

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর ফের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস নতুন করে এই দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে গত সাত বছরে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৬৮ বার পেছাল।

২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এর চার দিন পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে এর তদন্তভার ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্ত ভার র‌্যাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার :

রাজধানীর গুলশানে একটি অভিজাত স্পা সেন্টারের মালিক তিনি। কোটি টাকার গাড়িতে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে তার চলাফেরা। বিশ্বের একাধিক দেশে তার শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ। অথচ স্পা ব্যবসা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই।

গোয়েন্দারা বলছেন, ঢাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক থাইল্যান্ডে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। এসব অর্থ পাচারে সহায়তা করেন সেলিম প্রধান। এছাড়া সেলিম আন্তর্জাতিক ক্যাসিনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত।

৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট ফ্লাইটে হাজির হলে ফ্লাইট ছাড়তে ৩টা বেজে যায়। সেখান থেকে তাকে র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

তবে তার গ্রেফতারের খবরে বহু প্রভাবশালীর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেননা তিনি এ সারির অনেকের বিপুল অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। মূলত এমন অভিযোগেই তাকে বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি।

সেলিম প্রধানের  বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার  মুর্তুজাবাদ দক্ষিনপাড়া হাজী হান্নান প্রধান’র ছেলে।

জানা  যায়, সেলিম প্রধান কারাবন্দি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিজনেস পার্টনার ছিলেন। বিএনপি শাসনামলের আলোচিত ব্যক্তির নাম গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। বিএনপি সরকারের পতন হলেও সেলিম প্রধান থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

১/১১ সরকারের সময়ে জাহিদ নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সেলিম প্রধান বেপরোয়া হয়ে উঠেন। সূত্র বলছে, সেলিম প্রধানের চলাফেরা দেখেই অনেকে হতভম্ব হয়ে যান। কারণ তার আশপাশে সবসময় স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১০ জন দেহরক্ষী থাকেন।

রাস্তায় চলার সময় গাড়িতে উচ্চ শব্দে হুটার বাজানো হয়। ভিআইপি প্রটোকলের মতোই তার গাড়িবহরে থাকে ৫-৬টি দামি গাড়ি। বহরের মাঝখানে থাকে সেলিমের কালো টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি। সেলিম প্রধানের বিপুল অঙ্কের অর্থ রয়েছে থাইল্যান্ডে। ব্যাংককের পাতায়া বিচের কাছে তিনি ডিস্কো খোলেন ২০০৪ সালের দিকে।

আছে হোটেল ব্যবসাও। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সেলিম প্রধান একসময় থাইল্যান্ডের ডন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। থাইল্যান্ডের পাতায়া বিচঘেঁষা পাশাপাশি দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন রয়েছে। পাতায়া শহরেও প্রধান স্পা নামে একাধিক বিউটি সেন্টার রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্ত শুরু হয়। এতে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে সেলিম প্রধানের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য উঠে আসে। এরপরই মূলত কোণঠাসা হয়ে পড়েন থাই পাসপোর্টধারী সেলিম প্রধান।

সেলিম প্রধান জাপানিদের অর্থায়নে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেন। বিএনপি সরকারের সময় এখান থেকে প্রায় সব ব্যাংকের চেক বইসহ ব্যাংকিং দলিলপত্র ছাপানো হতো। এই প্রিন্টিং ব্যবসার নামে তিনি একাধিক ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন।

ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে তার সঙ্গে হাত মেলান ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। জনৈক ফরিদ নামের রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সেলিম প্রধানের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। সেলিম প্রধানের মালিকানাধীন ‘প্রধান স্পা সেন্টারে’ অনেক প্রভাবশালীর যাতায়াতের কথা শোনা যায়।

গুলশানের ৩৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত এই স্পা সেন্টার ঘিরে মুখরোচক নানা কথাও আছে রাতের ধনাঢ্যপাড়ায়। সঙ্গতকারণে মাঝে মাঝেই সেখানে ভিআইপি আগন্তুকের দেখা মেলে।

এ সময় স্পা সেন্টার ঘিরে নিরাপত্তার তোড়জোড় শুরু হয়। এ সুবাদে অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে তার রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। রহস্যমানব সেলিম প্রধানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায়।

সূত্র বলছে, ঋণের নামে রূপালী ব্যাংকের ১শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে অপরাধ জগতে নাম লেখান স্পা ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান। জাপানের অর্থায়নে শিল্প গড়ার নামে ঋণ নেয়া হলেও পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়। একপর্যায়ে টাকা নিয়ে দেশের বাইরে চলে যান সেলিম।

স্থায়ী আবাস গড়েন জাপানের রাজধানী টোকিওতে। কিন্তু টোকিওতেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হন। জাপান থেকে বহিষ্কার করা হলে চলে যান আমেরিকায়। সেখানে এক আমেরিকানকে বিয়েও করেন। আমেরিকান স্ত্রীকে কাজে লাগিয়ে তিনি ফের জাপানে ঢোকার চেষ্টা করেন।

কিন্তু এ যাত্রায়ও সফল হননি। সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তবে তাকে বেশিদিন কারাবাস করতে হয়নি। এরপর গুলশানের একটি স্পা সেন্টার ঘিরে তিনি নতুন করে নেটওয়ার্ক গোছানোর কাজ শুরু করেন।

সেলিম প্রধানের মোট ৫ জন স্ত্রী আছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। এর মধ্যে একজন রাশিয়ান, একজন আমেরিকান, একজন জাপানি এবং দু’জন বাংলাদেশি। সেলিমের ছোট বউ বা ৫ নম্বর স্ত্রী সহকারী কাস্টমস কমিশনার। বর্তমানে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সেলিম প্রধান তার স্ত্রীকে চাকরি দিতে যুবলীগের এক নেতাকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে সব ফাইনাল করেন। সেলিম প্রধানের ৩৩ নম্বর রোডের স্পা সেন্টারটি একসময় চালাতেন কয়েকজন জাপানি নাগরিক। তাদের সঙ্গে সখ্য থাকার সুবাদে তিনি জাপান যাওয়ার টিকিট পান।

কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে জাপানিদের কাছ থেকে স্পা সেন্টার দখল করে নাম দেন ‘প্রধান স্পা’। যে বাড়িতে স্পা সেন্টারটি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে, এর মালিক শাহজাহান নামের এক বিএনপি নেতা। শাহজাহানের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। দীর্ঘদিন বাড়িটি দখল রেখেছেন সেলিম প্রধান।