স্টাফ রিপোর্টার : এক বছরের ব্যবধানে রূপগঞ্জের একই স্থান থেকে আবারো মেছো বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার সকালে নগরপাড়া-চনপাড়া সড়কের পিরুলিয়া সড়কে মেছো বাঘটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।

আশপাশের গহীন অরণ্যে আরো দু’টি মেছো বাঘ থাকার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী। মেছো বাঘ আতঙ্কে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯ গ্রামবাসী আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে। প্রাণী চোরাচালান সংঘবদ্ধ কোন চক্র এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

উল্লেখ, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পিরুলিয়া থেকে ৬০ গজ দূরত্বে দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে মেছো বাঘ আটক করে এলাকাবাসী। পরে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা মিরপুর চিড়িয়াখানায় এটি হস্তান্তর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাতে পথচারীরা মেছো বাঘের মৃতদেহ নগরপাড়া-চনপাড়া সড়কের মুন্না মিয়ার বাড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখে। পরে  মানিক মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন রাতেই পাশের পিরুলিয়া সড়কে মৃতদেহটি ফেলে দেয়।

সকালে উৎসুক জনতা বাঘের মৃতদেহ দেখতে ভীড় জমায়। স্থানীয়দের ধারণা, মেছো বাঘটি হয়তো রাতে লোকালয়ে এসে পড়ে। এসময় কোন যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মারা যায়।

এদিকে, গত এক বছর ধরে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পিরুলিয়া, দক্ষিণপাড়া, দেইলপাড়া, কায়েতপাড়া, উল্লাব, ছাতিয়ান, বড়ালু, নয়ামাটি, নগরপাড়াসহ আশপাশের ৯ টি গ্রামে মেছো বাঘের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত বছরের ১২ সেপ্টম্বর পিরুলিয়া এলাকার পাশ্ববর্তী গ্রাম থেকে এলাকাবাসী ধাওয়া করে মেছো বাঘকে আটক করে। পরে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা মেছো বাঘটিকে উদ্ধার করে মিরপুর চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করে। এরপর থেকেই এসব এলাকায় বাঘ আতঙ্ক দেখা দেয়।

কথা হয় পিরুলিয়া এলাকার জবেদ আলীর  সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় রাইতেই বাঘের আওট ( শব্দ) পাওয়া যায়। রাইতে কেউ ঘর থেইক্যা বাইর অয় না। দক্ষিণপাড়া এলাকার  হোসেন  বলেন, এক বছর আগে এক বাঘ আটক করছিলো এলাকার লোকজন। ঐ সময় আরো দুটা বাঘ দেখা গিয়েছিলো।

এরমধ্যে আরেকটা মারা গেলো। মনে হয় আরো একটা রয়ে গেছে। মুন্না মিয়া জানান, প্রায়ই এ সড়কে রাতের আধারে মেছো বাঘের আনাগোনা দেখা যায়। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি ভাই। এ বাঘটিকে শনিবার রাতে রাস্তায় দেখা যায়। মনে হয় ওই দিনই কোনো দ্রুতগামী ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে সড়কের পাশের ঝোপে পড়ে যায় আর উঠতে পারেনি।

 সাইফুল  নামে একজন পথচারী জানান, আমি ভোরে হাঁটতে বের হলে প্রায় দেখি দুটা বাঘ। তবে কিছু বলতোনা। আমরা দু’তিন জন একসাথে থাকতাম। তারপরও ভয় লাগতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এ সড়কটা রাতে নীরব-নিস্তবদ্ধ থাকে। হয়তো কোন প্রাণী চোরাচালন চক্র এ রুট ব্যবহার করে মেছো বাঘ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে পারে। তারা বলেন, গত বছর দু’য়েক আগে চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের প্রাণী চোরাচালন চক্রের এক সদস্যকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছিলো।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাহাঙ্গীর রতন বলেন, এখনো খবর পাইনি। তবে এর আগে এ এলাকা থেকে মেছো বাঘ আটক করে চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়েছিলো। ঐসময় স্থানীয়রা বলেছিলো আরো দুটি বাঘের কথা। তবে এ বাঘ মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এরা মানুষের ক্ষতি করে না। হয়তো ক্ষুধার জ্বালায় লোকালয়ে আসে।