স্টাফ রিপোর্টার : রূপগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজু পাটোয়ারি (২৮) ট্রাকের এক সহযোগী (হেলপার) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই ট্রাক চালক।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ১২টার দিকে উপজেলার বরপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম।

নিহত রাজু পাটোয়ারি লক্ষীপুর জেলার দক্ষিন মান্দাইল এলাকার রমজান পাটোয়ারির ছেলে। রাজু পাটোয়ারী কে এস আর এম স্টিল মিলের রড বোঝাই ট্রাকের হেলপার ছিলেন। আহতরা হলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার হেলাল ও বগুড়া জেলার সিরাজ মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকাগামী একটি রড বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট: ১৩-১৩২২) এর সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক (চট্টগ্রাম ড: ৯৮৩) মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ট্রাকের হেলপার রাজু পাটোয়ারীর ।

এ সময় দুই ট্রাক চালক আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দূর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক ও মরদেহ উদ্ধার করে।

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যুরো ,রবিউল আউয়াল রবি :  ঈশ্বরগঞ্জে সুদের ফাঁদে ফেলে এক অসহায় বৃদ্ধা নারীর বসত ঘর ও জমি জবর দখল করে নিয়েছেন তারুন্দিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এনামুল হক। সোমবার দুপুরে এ ঘটনার বিচার দাবি করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাহারা খাতুন(৭৫) ও প্রতিবাদী গ্রামবাসী।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, পরিবারের অগোচরে ভুক্তভোগী ছাহারা খাতুনের পুত্র ইদ্রিস মিয়া(৩০)কে  ৬০(ষাট) হাজার টাকা সুদে দেয় যুবলীগ নেতা এনামুল।

বর্তমানে ওই টাকার সুদ-আসলসহ  ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দাবি করে ইদ্রিস মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক এনামুল তাঁর এক নিকট আত্মীয়ের নামে সাড়ে পনের শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রে দলিল করে নেয়। কিন্তু একই দাগে ছাহারা খাতুনের নামে ৫ শতাংশ জমির উপর ৪২ হাত লম্বা একটি হাফ বিল্ডিং টিনের বসত ঘর রয়েছে।

বিগত প্রায় এক মাস আগে যুবলীগ নেতা এনামুলের নেতৃত্বে স্থানীয় সাঈদ, মোতালিব, ওমর ফারুক, হাবিকুল, হারুন, কাদির ও রুহুল আমীন সন্ত্রাসী কায়দায় ওই বৃদ্ধ নারীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাবুল মিয়া জানান, ঘটনাটি ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে জানালেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলা নেয়নি। তবে গত ৩১ আগষ্ট পুলিশ এসে আমার বসত ঘরের তালা খুলে দিয়েছে।
প্রতিবেশী আ: আজিজ জানান, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে ভুক্তভোগী নারীসহ ৯জনকে আসামী করে আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছে ওই যুবলীগ নেতা।

স্থানীয়রা এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাদেরকেও চাঁদাবাজী মামলায় আসামী করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর দেবর চুন্নু মিয়া জানান, ওই যুবলীগ নেতার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। জুয়ার বোড বসানো, জমি দখল আর সুদ ব্যবসা তার নিত্যদিনের কাজ।
ভুক্তভোগী রোজীনা খাতুন জানান, যুবলীগ নেতা আমাদেরকে বসত বাড়ী ও জমি ছেড়ে দিতে হুমকি দিচ্ছে। না হলে জানে মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে।
তবে এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার ১০নং তারুন্দিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এনামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
এবিষয়ে সার্কেল পুলিশ সুপার শাকের হোসেন সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে শুনেছি। তবে অফিসিয়ালি নির্দেশ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।