রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

“মাননীয় শেখ হাসিনার বারতা, নারী পুরুষ সমতা” এবং “কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা” এই দুটি প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে রূপগঞ্জে জাতীয় কন্যা দিবস ২০১৯’ পালিত হয়েছে।

আজ দুপুরে উপজেলার কাঞ্চন পৌর এলাকার হাজী রফিজউদ্দিন ভুইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান ভুইয়া,  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম নীলা।

স্কুলের শিক্ষক সালেহা বেগম, মাসুদ আলম, দিপক কুমার সাহা, জুলফিকার আলী, সুকমল চন্দ্র দাস, কামরুজ্জামান, সোহানা ইয়াসমিন, সেলিনা পারভিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিবাবকবৃন্দ প্রমুখ।

সভায় নারীদের এগিয়ে নিতে এবং শিশুদের মেধা বিকশিত করতে দেশে বাল্য বিবাহ বন্ধ, মাদক ও ইভটিসিং প্রতিরোধে আলোচনা করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, প্রাণের দেশ :

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার রিহ্যাবের দুই পরিচালককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- শাকিল কামাল চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন সিকদার।

সোমবার তাদের আদালতে তুলে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত প্রতিবেদক, প্রাণের দেশ :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন দুই আসামি মিনহাজ ও আনোয়ার।

সোমবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। এসময় তারা নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেবেন বলে জানান। আদালত সাফাই সাক্ষীর জন্য ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন তার ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হত্যা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে। সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক। হাফিজ মারা গেছেন।

ওই মামলায় জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক ও আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যা মামলায় ৫৮ সাক্ষীর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৪১ জন সাক্ষ্য দেন।

রাসেল মাহমুদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড নামে মোবাইল ফোন কারখানা থেকে ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দারা।

অভিযানে মোবাইল ফোন কারখানার কাঁচামালের সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা চাইনিজ ক্যাসিনো সামগ্রী (জুয়ার বোর্ড- মাহাজং) উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শামীমা আক্তার।
শামীমা আক্তার জানান, কারখানার ওয়্যার হাউস থেকে মাহাজং নামে ক্যাসিনো বোর্ড ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করে গোয়েন্দা টিম। মোবাইল ফোন কারখানার চাইনিজ ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৪টায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি টিম তার নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা দল বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কারখানায় অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করে। হংকং ও ম্যাকাওয়ের ক্যাসিনোতে জুয়ার জন্য মাহাজংয়ের প্রচলন রয়েছে।

বাংলাদেশে এরকম বেশকিছু ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানির বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ তাদের ডাটাবেজ দেখে যে সব কোম্পানি মাহাজং বোর্ড বা ক্যাসিনো সামগ্রী বাংলাদেশে এনেছে তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আমাদের ডাটাবেজে বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজে এসব সামগ্রী আছে বলে তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ ডিক্লারেশন দিয়েই এসব সামগ্রী আমদানি করেছে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি।

রবিউল আউয়াল রবি

ময়মনসিংহের সদর উপজলোর ১১ নং ঘাগড়া ইউনয়িনরে চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার সাজুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিএসপির বরাদ্ধ, মসজিদ -ঈদগাহর বরাদ্ধ টাকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বরাদ্ধ, বাজার ইজারার টাকা ও সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের ওয়ান পারসেন্ট টাকা নানা অযুহাতে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব কারণে স্থানীয়রা তাকে দুর্ণীতির বরপুত্র হিসেবেই চেনে ! দুর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৯ সালের আগষ্ট মাস র্পযন্ত এলজিএসপির বরাদ্ধকৃত অর্থের উপর কোন সভা হয়নি। এই খাতে বরাদ্ধ ইউনয়িনের অনেক স্থানের কালর্ভাড নির্মাণ না করইে অর্থ আত্মসাৎ করছেন।
অভিযোগ পত্রে দেখা গেছে, সাব-রেজিষ্ট্রিী অফিস থেকে পাওয়া ওয়ান পারসেন্ট টাকা বিভিন্ন অযুহাতে আত্মসাৎ করছেন। হতদরিদ্র ও অতি দরিদ্রদের কর্মসৃজনের প্রায় ২০ লাখ টাকা কাজ না করিয়ে লুটপাট করেছে।

এখানেই শেষ নয়। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সরকার কতৃত ঘোষিত ভাতা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান গোপনে সদস্যদের ভাতা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, ঘাগড়া ইউনিয়নের জাহেদ আলী মন্ডলবাড়ীর জামে মসজিদের উন্নয়নের এক লাখ টাকা লোপাট করেছেন।

চৌরাস্তা বাজারের মসজিদের সাড়ে ৩ লাখ টাকা তস্রুপ করেছেন। তস্রুপ করেছেন ঘাগড়া চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন ঈদগা সাঠের উন্নয়নের কয়েক লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, ভূয়া কমিটি বানিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থানের নামে কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। সবই আছে খোয়াবে।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধুমাত্র চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে তিনি গত কয়েক বছরে দাপুনিয়া মাছবাজারে পাঁচ তলা বাড়ি, দুটি ট্রাক, শম্ভুগঞ্জে ৬ একর জমি, ফুলপুরে বাড়ি, ভাটি দাপুনিয়া মাদ্রাসার সামনে ২ কাঠা জমি কিনেছেন।

অথচ চেয়ারম্যান হওয়ার আগে এগুলোর কোন কিছুই তার ছিলোনা।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ারম্যান সাজাহান সরকার সাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বাবা নির্বাচনের আগে ৪০ একর সম্পত্তি রেখে গেছেন। আমি যদি কোন দুর্ণীতি করে থাকি তাহলে আইন যা ব্যবস্থা নিবে আমি তা মাথা পেতে নেবো।

সৌদি আরবের নাজরানে সফল হামলা চালিয়েছেন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এতে কয়েক হাজার সৌদি সৈন্য এবং তাদের কয়েক শত গাড়ি আটক করেছেন তারা। শনিবার হুতিদের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ হামলায় সৌদি সামরিক বাহিনীর তিনটি ব্রিগেড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের কয়েক শত গাড়ি আটক করা হয়েছে। আর কয়েক হাজার সৈন্য বন্দি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কর্মকর্তাও রয়েছেন।

ইয়াহয়া সারিয়া বলেন, বড় ধরনের এ হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সমর্থন জুগিয়েছে। সৌদি দূর্গে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় হামলা।

আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। শিগগির এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে কথা দিয়েছেন হুতিদের এ মুখপাত্র।

জাহিদ হোসেন:

বিংশ শতকের প্রথম ভাগের একটি বিখ্যাত মামলা। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশের ভাওয়াল এস্টেটের (বর্তমানে বাংলাদেশের গাজীপুর জেলায় অবস্থিত) কর্তৃত্ব নিয়ে এই মামলা হয়েছিল যা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।

মামলার বাদীর পরিচয়
বাদী নিজেকে ভাওয়ালের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায় হিসাবে দাবী করেছিলেন, এক দশক আগে যাঁর মৃত্যু ঘটেছিলো বলে সবাই জানতো। রমেন্দ্রনারায়ণ রায় ছিলেন ভাওয়াল এস্টেটের জমিদার বংশের রাজকুমার। তিন ভাই মিলে তারা এই জমিদারীর দেখাশোনা করতেন। ভাওয়াল এস্টেটে প্রায় ৫৭৯ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে প্রায় ৫ লাখ প্রজা বাস করতো। রমেন্দ্রনারায়ণ ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। অধিকাংশ সময় তিনি শিকারে, আনন্দ-ফুর্তি করে, এবং নারী সংসর্গে কাটাতেন। তাঁর বেশ কয়েকজন রক্ষিতা ছিলো বলেও জানা যায়। ১৯০৫ সাল নাগাদ তিনি যৌন রোগ সিফিলিসে আক্রান্ত হন। ১৯০৯ সালে তিনি চিকিৎসা করার জন্য দার্জিলিং -এ গমন করেন। সেখানেই মে মাসের ৭ তারিখে ২৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয় বিলিয়ারি কলিক বা গলব্লাডারে পাথর। দার্জিলিং এ তাঁর শবদেহ দাহ করা হয়, এবং শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান পালিত হয় মে মাসের ১৮ তারিখে।

পরবর্তীকালে প্রশ্ন উঠে, মে মাসের ৮ তারিখে আদৌ কী ঘটেছিলো, এবং দাহ করার দিনক্ষণ ও কার শবদেহ দাহ করা হয়েছে, তা নিয়ে। কোনো কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, ঐ সময়ে হঠাৎ শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি দাহকার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে শ্মশানে চিতা প্রজ্জ্বলিত করার ঠিক আগমুহুর্তে দাহকার্য্য স্থগিত হয়ে যায়। শেষকৃত্যে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা শিলাবৃষ্টি হতে বাঁচার জন্য যখন অন্যত্র আশ্রয় নেন, তখন মৃতদেহ গায়েব হয়ে যায়। পরে সেখান থেকে কুমার রমেন্দ্রনারায়ণের বিধবা তরুণী স্ত্রী বিভাবতী দেবী তাঁর ভাই সত্যেন ব্যানার্জীর সাথে ঢাকায় চলে যান। পরের দশ বছরে ভাওয়াল এস্টেটের মালিক অন্য দুই ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে। ফলে তদানিন্তন ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটিশদের কোর্ট অফ ওয়ার্ড্স বিধবা স্ত্রীদের পক্ষে এই জমিদারীর মালিকানা গ্রহণ করে।

রমেন্দ্রনারায়ণের প্রত্যাবর্তন
রমেন্দ্রনারায়ণের শবদেহ গায়েব হয়ে যাওয়ার গুজব আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে। এও শোনা যেতে থাকে যে, রমেন্দ্রনারায়ণকে জীবিত দেখা গেছে। বাংলার সর্বত্র লোক মারফত অনুসন্ধান চালানো হয়। গুজব রটে যে, কুমার রমেন্দ্রনারায়ণ বেঁচে আছেন, এবং সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেছেন। রমেন্দ্রনারায়ণের বোন জ্যোতির্ময়ী এই ব্যাপারে খোঁজ করতে শুরু করেন, এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, কুমার রমেন্দ্রনারায়ণ সন্ন্যাসী হিসাবে বেঁচে আছেন।

১৯২০-২১ সালের দিকে ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধের কাছে সর্বাঙ্গে ছাই মাখা এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। তিনি রাস্তায় চার মাস বসে থাকেন। সুস্বাস্থ্যের জন্য তিনি সবার নজর কাড়েন। গুজব রটে যায় যে, নরেন্দ্রনারায়ণের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। সন্ন্যাসী অবশ্য বলতে থাকেন যে, তাঁর পরিবারকে তিনি ত্যাগ করেছেন। কুমার নরেন্দ্রনারায়ণের ভাগ্নে বুদ্ধু সন্ন্যাসীকে দেখে আসেন, তবে তিনিই রমেন্দ্রনারায়ণ কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি। স্থানীয় ব্যক্তিরা এই সন্ন্যাসীকে হাতিতে করে জয়দেবপুরে পাঠিয়ে দেন ১৯২১ সালের এপ্রিল ১২ তারিখে। পরের কয়েক দিনে আত্মীয়রা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, এই ব্যক্তিই কুমার নরেন্দ্রনারায়ণ। তবে সন্ন্যাসী এপ্রিলের ২৫ তারিখে ঢাকায় ফিরে যান। কুমারের আত্মীয়দের আহবানে তিনি আবার এপ্রিলের ৩০ তারিখে জয়দেবপুরে আসেন। তখন তাঁকে আত্মীয় ও প্রজা – সবাই দেখতে আসে। উপস্থিত জনতার জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সন্ন্যাসী কুমার নরেন্দ্রনারায়ণের দুধ-মার কথা মনে করতে পারেন। এই তথ্য পরিবারের বাইরে কারো জানা ছিলোনা বলে সবাই তাঁকে কুমার নরেন্দ্রনারায়ণ বলে বিশ্বাস করে।

সন্ন্যাসী দাবি করেন, তিনি দার্জিলিং-এ অসুস্থ হয়ে পড়ার আগের কথা মনে করতে পারেন না। জঙ্গলে নাগা সন্ন্যাসী সাধু ধর্মদাস তাঁকে বৃষ্টিভেজা অবস্থায় খুঁজে পায়, এবং সেবা করে বাঁচিয়ে তুলে। সেই থেকে নাগা সন্ন্যাসীকে গুরু মেনে তিনি সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে বছর দশেক ঘোরা ফেরা করার পরে তাঁর স্মৃতি ফেরত আসতে শুরু করে। তখন গুরুর আদেশে তিনি ভাওয়ালে ফিরে আসেন।

প্রথম মামলা
১৯৩০ সালের এপ্রিল ২৪ তারিখে ভাওয়াল সন্ন্যাসীর আইনজীবীরা বিভাবতী দেবী ও অন্যান্য মালিকদের বিরুদ্ধে ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তির অধিকার চেয়ে মামলা করেন। জেলা জজ অ্যালান হেন্ডারসন বিচারপতি পান্নাবল বসুকে এই মামলার বিচারে নিয়োগ করেন। বিজয় চন্দ্র চক্রবর্তী ভাওয়াল সন্ন্যাসীর প্রধান উকিল হিসাবে কাজ করেন। বিবাদীপক্ষের উকিল ছিলেন অমিয় নাথ চৌধুরী। বিচার শুরু হয় ১৯৩৩ সালের নভেম্বর ৩০ তারিখে।

বিবাদীপক্ষে আরো ছিলো কোর্ট অফ ওয়ার্ডস যা বিভাবতী দেবী ও অন্য দুই কুমারের বিধবা স্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করছিলো। বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, এই নিরক্ষর সন্ন্যাসী কোনো অবস্থাতেই ব্রাহ্মণ বর্ণের হতে পারে না। কিন্তু বাদীপক্ষের আইনজীবীরা প্রমাণ করে দেখান যে, কুমার রমেন্দ্রনারায়ণও প্রায় নিরক্ষর ছিলেন। বিবাদীপক্ষ থেকে আরো দাবী করা হয়, কুমারের রক্ষিতা এলোকেশীর কাহিনী পুরোই মিথ্যা। কিন্তু বাদীপক্ষ এলোকেশীকে হাজির করে। জেরার জবাবে এলোকেশী জানান, পুলিশ তাঁকে ঘুস দিয়ে সাক্ষ্য দেয়া হতে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে।

বিবাদীপক্ষ আরো দাবী করে, কুমারের সিফিলিস রোগ শেষ পর্যায়ে পৌছে যাওয়ায় তাঁর গায়ে দগদগে ঘা ও ক্ষত থাকার কথা, কিন্তু সন্ন্যাসীর গায়ে তা নেই। সন্ন্যাসী মূলত উর্দু ভাষায় কথা বলতেন। তিনি দাবী করেন যে, ভ্রমণ করতে করতে তিনি বাংলা ভুলে গেছেন। কুমারের চোখের বর্ণ নিয়েও বিতর্ক উঠে। এটাও দাবী করা হয় যে, শ্মশানে কুমারের চিতায় অন্য কারো দেহ দাহ করা হয়েছে।

উভয় পক্ষ থেকে কয়েকশ সাক্ষী হাজির করা হয়। তাদের অনেকের সাক্ষ্য ছিলো পরস্পরবিরোধী। বিবাদী পক্ষ কুমারের বোন জ্যোতির্ময়ী দেবীকে জেরা করে। তিনি সন্ন্যাসীর পক্ষে ছিলেন, এবং দাবী করেন, সন্ন্যাসীই কুমার। তিনি আরো দাবী করেন, সন্ন্যাসীর চেহারায় তাঁদের বংশের ছাপ রয়েছে, এবং সন্ন্যাসী বাংলা বলতে পারেন। বাদীপক্ষ কুমারের স্ত্রী বিভাবতী দেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিভাবতী দেবী কুমারের চেহারার সাথে সন্ন্যাসীর চেহারার কোনো মিল নেই বলে দাবী করেন। কুমারের অন্য ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী অন্নদা কুমারী দাবী করেন, কুমার রমেন্দ্রনারায়ন ইংরেজি বলতে পারতেন, এবং বাংলা বলতে ও লিখতে পারতেন। এর কোনোটাই সন্ন্যাসী পারতেন না। কিন্তু কুমারের ভাষাজ্ঞানের প্রমাণ হিসাবে পেশ করা চিঠি গুলো পরে জাল বলে প্রমাণিত হয়।

১৯৩৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গুরু ধর্মদাশ নাগা সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হন। দোভাষীর মাধ্যমে তিনি জানান যে, ভাওয়াল সন্ন্যাসী হলো তাঁরই পূর্বতন শিষ্য সুন্দরদাস। পূর্বে মাল সিং নামধারী এই ব্যক্তি জাতিগতভাবে পাঞ্জাবী এবং লাহোরের নিবাসী শিখ ধর্মাবলম্বী। সাক্ষ্য দেয়ার সময়ে গুরু অসুস্থ্য হয়ে পড়েন, এবং তাঁর জেরা আদালত কক্ষের বাইরে নিতে হয়েছিলো। সন্ন্যাসীর সমর্থকেরা গুরু ধর্মদাসকে ভন্ড অভিহিত করে। উভয় পক্ষের সমাপনী যুক্তিতর্ক চলে ছয় সপ্তাহ ধরে। মামলার রায় দেয়ার পূর্বে শুনানি মুলতুবী করা হয় ১৯৩৬ সালের মে ২০ তারিখে। বিচারক পান্নাবল বসু তিন মাস ধরে চুড়ান্ত রায় নিয়ে কাজ করেন। ১৯৩৬ সালের আগস্ট ২৪ তারিখে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ রায় প্রদান করেন, এবং সন্ন্যাসীর পক্ষে রায় দেন। এসময় মামলার রায় জানতে বিশাল জনসমাগম হয়। মামলার রায় দেয়ার পরেই পান্নাবল বসু বিচারকের পদ থেকে অবসর নেন।

দ্বিতীয় মামলা
ভাওয়াল এস্টেটে রমেন্দ্রনারায়ণের সম্পত্তির ভাগ থেকে দাবিদার সন্ন্যাসীকে টাকা নিতে অনুমতি দেয়া হয়। তিনি অন্যান্য বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ স্থগিত রাখেন, এবং এই সম্পত্তির কর্তৃত্ব কোর্ট অফ ওয়ার্ডসের হাতেই রাখেন। একই সময়ে তিনি বিয়ে করেন। রাজস্ব বোর্ড মামলা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখে তখনকার মতো। এ এন চৌধুরী মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে বিভাবতী দেবী হাল ছাড়তে রাজি হননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে মামলার আপিল ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ঐ বছর বিভাবতী দেবীর আইনজীবীরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করে। জার্মান বিমান হামলায় কাউন্সিলের কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রিভি কাউন্সিলের অধিবেশন ঘটে হাউজ অফ লর্ডসে, ১৯৪৫ সালে সেখানেই শুনানি শুরু হয়। ডি এন প্রিট দাবিদারের পক্ষে এবং ডব্লিউ ডব্লিউ কে পেইজ, কোর্ট অফ ওয়ার্ডসের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন।

প্রিভি কাউন্সিল আপিল শুনতে রাজি হয়। লর্ড থাঙ্কের্টন, লর্ড হার্বার্ট ডু পার্স্ক, এবং স্যার চেতুর মাধবন আপিলের বিচার করেন। ২৮ দিন ধরে শুনানি চলে। ১৯৪৬ সালের জুলাই ৩০ তারিখে বিচারকেরা দাবিদারের পক্ষে রায় দেন, এবং আপিল নাকচ করে দেন। পরের দিন কলকাতায় টেলিগ্রাফ মারফত মামলার রায় জানানো হয়।

ফরেনসিক তাৎপর্য
ফরেনসিক বিজ্ঞানের জন্য এই মামলাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলাতে মানুষের পরিচয় বের করার কলাকৌশলের যথেষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে। কুমার নরেন্দ্রনারায়ণ এবং ভাওয়াল সন্ন্যাসীর দেহের নিম্নলিখিত সাদৃশ্য ছিলো।

S.No পরিচিতি চিহ্নঃ কুমার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়
1 বর্ণ গোলাপী ও শ্বেত
2 চুলের বর্ণ হালকা বাদামী
3 চুলের ধরন ঢেউ খেলানো
4 গোঁফ মাথার চুলের চাইতে পাতলা
5 চোখের বর্ণ বাদামী
6 ঠোঁট নীচের ঠোট ডানদিকে কুঞ্চিত
7 কান কিনারার দিকে চোখা
8 কানের লতি গালের দিকে সংযুক্ত না, ছিদ্র যুক্ত
9 কণ্ঠমণি প্রকট
10 উপরের বাম দিকের মাড়ির দাঁত ভাঙা
11 হাত ছোট
12 বাম হাতের তর্জনী ও মধ্যমা ডান হাতের চাইতে কম অসম আকারের
13 ডান চোখের নীচের পাপড়ির আঁচিল বিদ্যমান
14 পা খসখসে, জুতার আকার ৬ নাম্বার
15 বাম গোড়ালির উপরের দিকে ক্ষত বিদ্যমান
16 সিফিলিস বিদ্যমান
17 সিফিলিসের ক্ষত বিদ্যমান
18 মাথা ও পিঠে ফোঁড়ার দাগ বিদ্যমান
19 কুঁচকিতে অস্ত্রোপচারের দাগ বিদ্যমান
20 ডান বাহুতে বাঘের থাবার আঘাতের দাগ বিদ্যমান
21 শিশ্নের নিম্নভাগে আচিল বিদ্যমান

১৯৪৬ সালের জুলাই ৩০ তারিখে বিচারকেরা দাবিদারের পক্ষে রায় দেন, এবং আপিল নাকচ করে দেন। পরের দিন কলকাতায় টেলিগ্রাফ মারফত মামলার রায় জানানো হয়। সন্যাসি রাজার সব মিলে গেলেও তার হাতের ছাপ মিলেনি। এ ছাড়াও এই দুই ব্যক্তির আলোকচিত্রে যথেষ্ট মিল আছে। হাঁটার ধরণ, গলার স্বর, এবং ভাবভঙ্গীতেও মিল রয়েছে। আঙুলের ছাপ নেয়ার পদ্ধতি এই মামলার সময়ে চালু ছিলো, কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে তা ব্যবহৃত হয়নি। ধারণা করা হয়, কুমার নরেন্দ্রনারায়ণ ১২ বছর আগে নিখোঁজ হওয়াতে তাঁর হাতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা সম্ভব ছিলো না। তিনি রায় ঘোষনার দুই দিন পর মারা যান।

# তথ্যসূত্র:
1. The Bhawal estate scandal
2. পার্থ চ্যাটার্জি – A Princely Impostor? – The Strange and Universal History of the Kumar of Bhawal (2002)
3. The man who would be king
4. মুরাদ ফয়েজি – A Prince, Poison and Two Funerals: The Bhowal Sanyasi Case, English Edition Publishers (2003)
5. Wikipedia

লেখক : আইনজীবী

স্টাফ রিপোর্টার  :

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানা আবিস্কার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিতা-পুত্রসহ তিনজনকে।

 

উদ্ধার করা হয়েছে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি। এছাড়া অর্ধতৈরী একটি ম্যাগজিনও উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে সাইলো গেট এলাকাতে ওই অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতরকৃতরা হলো আলী আকবর লাভলু সরকার (৫৩), তার ছেলে কামরুজ্জামান নওশাদ সরকার (২৯) ও মৃত আবদুস সালামের ছেলে মজিবর রহমান (৩৮)।

 

ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে পশ্চিম কদমতলী সড়ক থেকে লাভলু সরকার ও নওশাদকে একটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময়ে তাদের নিয়ে সাইলো গেট এলাকাতে আলী আকবরের ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তৈরিকৃত একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

 

মিজানুর রহমান আরো জানান, এ বাসায় মূলত দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা হতো। নওশাদের কাছে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ওই কারখানায় তৈরি।

 

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, এরআগে মিজিমিজি এলাকার এক মেয়েকে গিটার শিখানোর অজুহাতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে নওশাদ। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে নওশাদ।

 

পরে মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে অপরহণ করে নওশাদ ও তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার মামলা করলে ওই মামলায় সাড়ে তিন মাস জেল খাটে নওশাদ। এখানেই শেষ নয়, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে আলিফ জেনারেল হসপিটালে চাকরী করার সময় রাতে ওই হাসপাতালের সিনিয়র নার্সকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় নওশাদ।

 

পরে হাসপাতাল কর্তপক্ষ মান সম্মানের ভয়ে পর্যাক্রমে রুমাদক বিক্রি ও মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। মুলত একজন প্রতারক ও লম্পট সে।

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : রূপগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় বীরমুক্তিযোদ্ধা খাঁন মোহাম্মদ খুরশিদ আলম (৬৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার তারাব পৌরসভার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

নিহত বীরমুক্তিযোদ্ধা খাঁন মোহাম্মদ খুরশিদ আলমের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর বেজরা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আশ্রাফ আলী খাঁন। তিনি তারাব এলাকায় একটি ডেকোরেটার  দেখাশুনার কাজ করতেন।
রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিক জানান, দুপুর ১টার দিকে একটি অটোরিকশা যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যোগে বিশ্বরোড থেকে রূপসীর দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় ঢাকাগামী দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যান অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা যাত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা খাঁন মোহাম্মদ খুরশিদ আলম মারা যান। এসময় অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হন।

প্রাণের দেশ ডেস্ক :

মহাসড়কে টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের আওতাধীন সড়ক-মহাসড়ক বিভাগ। ইতোমধ্যেই সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় থাকা সড়কের পরিমাণ ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক।

এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রংপুর—এই চার মহাসড়কে সরকার টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজের এই টোলের টাকা ব্যবহৃত হবে। এই টাকা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সড়ক বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শুরুতে দেশে চার লেনের মহাসড়কে টোল আদায় করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ছয় লেন ও আট লেনের মহাসড়কে টোল বসবে। মহাসড়কগুলোর কোন কোন জায়গায়, কয় ধাপে, কী পরিমাণ টোল আদায় করা হবে, সেসব বিষয়ের কাজ চূড়ান্ত করার পর মাঠ-পর্যায়ের কাজে হাত দিতে চান সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চায় সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগ বলছে, সড়কে টোল আদায়ের ধারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। বর্তমানে দেশের তিনটি মহাসড়কে ভিন্ন ভিন্ন হারে টোল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন যানবাহনকে চলতে হচ্ছে। এই তিনটি মহাসড়ক হচ্ছে—নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়ার ৫০ কিলোমিটার,  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশে (রুস্তমপুর টোল প্লাজা) পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডের ১২ কিলোমিটার। মহাসড়কে টোল আরোপের ক্ষেত্রে এই তিনটি সড়কের টোল হার বিবেচনায় রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্র জানায়, এসব সড়কে যানবাহনভেদে টোল-হারের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন ২০০৩ সালের ১ মে থেকে নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়ার সড়কে ট্রেইলারে ১৯০ টাকা, হেভি ট্রাকে ১৫০ টাকা, বড় বাসে ৬০ টাকা, মাইক্রোবাসে ৩০ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ৫ টাকা হারে টোল আদায় হচ্ছে। ২০০৫ সালের ১০ মার্চ থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশের (রুস্তমপুর টোল প্লাজা) মহাসড়কে ট্রেইলারে ২৮০ টাকা, হেভি ট্রাকে ২২৫ টাকা, বড় বাসে ৭৫ টাকা, মাইক্রোবাসে ৪৫ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ৫ টাকা গারে টোল আদায় হচ্ছে। তবে, ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে চালু হওয়া চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডের ১২ কিলোমিটার সড়কের টোল হার সবচেয়ে কম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা কাজ শুরু করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কাজ শুরু করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, ‘এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আপাতত কোনও কমিটি করা হয়নি। প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আমাদের একটি টিম কাজ শুরু করছে। তারা একটি খসড়া প্ল্যান চূড়ান্ত করে দাখিল করার পর দেখা যাবে কমিটি করা লাগবে কিনা।’

পিডি /এমএ