প্রাণেরদেশ  প্রতিবেদক : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মস্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সালমান এফ রহমান এবং মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বাসস

একইসঙ্গে মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিববৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে পৌঁছলে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং ড.আবদুস সোবহান গোলাপ সহ দলের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দ এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে লন্ডনের হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী বহনকারী বিমানটি লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

শেখ হাসিনা গত ১৯ জুলাই (শুক্রবার) লন্ডনে যান। সেখানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ২০ জুলাই (শনিবার) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে যোগ দেন।

লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এবং লর্ড আহমেদ অব ঊইম্বলডন পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

২২ জুলাই (সোমবার) লন্ডনের একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর বাম চোখে সফল অস্ত্রপচার সম্পন্ন হয়।

স্টাফ রিপোর্টার :  দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টিতে ঢাকার সাভারে ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেডসহ শাখা সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কয়েক কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া গণপরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ উঠেছে চরমে।

ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল হতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখে নবীনগর থেকে বিশমাইল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার, টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের উভয়মুখে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে আশুলিয়া নয় কিলোমিটার,  নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর থেকে চন্দ্রামুখে ১৫ কিলোমিটার ও একই সড়কের চন্দ্রা থেকে বাইপাইল ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া বিকাল হতে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় শিল্পকারখানাসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঈদের ছুটিতে সড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যানজটে ভোগান্তির পাশাপাশি কয়েক গুণ ভাড়া বেশি নেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের অভিযোগ, নবীনগর থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যেতে ৫০ টাকার ভাড়া সাড়ে ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গাবতলী থেকে সাভার ২৫ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা, সাভার থেকে নবীনগর ১০ টাকার ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা ও আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ১৫ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে তাদের। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় গণপরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সাইদুর রহমান জানান, টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে আশুলিয়ার শিমুলিয়া এলাকায় হাটুপানি পরিমাণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও সড়কে পানি জমেছে। এতে করে যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলছে। ফলে এসব সড়কে থেমে থেমে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হলেও ঢাকা জেলা পুলিশ তা নিরসনে কাজ করছে।

স্টাফ রিপোর্টার  : ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমূখী গার্মেন্টস কারখানা জাজ এ্যাপারেলস গার্মেন্টের শ্রমিকারা বকেয়া বেতন, ওভার টাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে। 

এ সময় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এসময় শ্রমিকরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। 

শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার (৮ আগষ্ট)  বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ভুঁইগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, গত চার মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন ঠিকমতো দিচ্ছে না। কয়েক ভাগে অল্প বিস্তর দিলেও বেতনের অধিকাংশ টাকাই বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ঈদ বোনাস বাবদ প্রতি শ্রমিককে মাত্র এক হাজার টাকা করে দিচ্ছে।

 

শ্রমিকদের দাবি, বেতন বোনাস পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানালে কর্মকর্তারা শ্রমিকদের কয়েকজনকে ডেকে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুধুমাত্র গত মাসের বেতন ও চার মাসের ওভার টাইম পরিশোধ বকেয়া রয়েছে।

 

ফান্ড দূর্বল থাকায় বেতন অর্ধেক এবং ঈদ বোনাস পুরোপুরি দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শ্রমিকরা তা না মেনে অহেতুক আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এর পেছনে বহিরাগত লোকজনের ইন্ধন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে আজকের মধ্যেই শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফুতল্লা থানা পুলিশ সহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের অবরোধের কারনে ঢাকা-লিংক রোডের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ জন।

 

কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অনুরোধ না রেখে  পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড টিয়াল সেল, রাবার বুলেট ও সটগানের গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় লিংক রোডে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। 

শিল্প পুলিশের (জোন-৪) পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মিলে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেলসহ ৫২ রাউন্ড রাবার  বুলেট ও সটগানের গুলি ছোড়ে। তবে কোন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।