শিরোনাম

“সোনালী ব্যাংকে ৫৯৮ কোটি আত্মসাৎ

১৬ জনের অব্যাহতি"

প্রকাশিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ঃসরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ কেলেংকারীসহ নানাভাবে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে ৫৯৮ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত কয়েকটি গার্মেন্টের ১৬ জন মালিকদের কয়েকজন। তবে ব্যাংকটির বরখাস্তকৃত ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ৪ এপ্রিল ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে এই আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী জাল দলিল, ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ৫৯৮ কোটি টাকা লোপাটসহ দুর্নীতির অভিযোগ এনে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসারসহ ৩ কর্মকর্তা এবং কয়েকটি গার্মেন্টের ১৬ জন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের তৎকালীন এজিএম সফিজ উদ্দিন আহমেদ। মামলাটি ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত করা হলেও ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী স্থগিতাদেশ শেষ হয়।

প্রথমে মামলাটি সদর মডেল থানার এসআই ইমদাদুল হক তদন্ত করলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে দুদকের উপ পরিচালক মো. বেনজীর আহমেদ মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারী সিডিসহ মামলাটির নথি নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলার আসামীরা হলেন, সোনালী ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান, সাবেক সিনিয়র অফিসার বাহার আলী হাওলাদার, সাবেক অফিসার বিমল কৃষ্ণ দাস, মেসার্স লিজেন্ড ফাইভ অ্যাটায়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জহিরুল ইসলাম, পরিচালক রবীন্দ্রনাথ ধর, বিশ্বাস খালেদ হোসাইন, তাপস কুমার সাহা, মোঃ হোসাইন, মেসার্স আই এন নিটওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী নজরুল ইসলাম, মেসার্স ইউনিটি নিটওয়্যার এর মালিক মজিবুর রহমান সোহেল।

মোঃ ইলিয়াছ সরকার, মেসার্স ড্রিম অ্যাপারেলস এর চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, মেসার্স ওবায়েদ নিট ওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ ওবায়দুর রহমান, চেয়ারম্যান আব্দুর রাশেদ, মেসার্স কেপিএফ টেক্সটাইল আতাউর রহমান, মেসার্স কেএমএস ডিজাইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান।

মামলার আসামীদের মধ্যে মেসার্স লিজেন্ড ফাইভ অ্যাটায়ার্স লিমিটেডের পরিচালক তাপস কুমার সাহাসহ বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন পূর্বেই প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন।
এদিকে সোনালী ব্যাংক ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, দলিল জালিয়াতি, ঘুষ কেলেংকারীসহ নানাভাবে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে ৫৯৮ কোটি টাকা লোপাটের সঙ্গে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন গার্মেন্ট মালিকরাও। তবে আদালত শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার আইনজীবী মাসুদ উর রউফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ৬ মে সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ কেলেংকারীসহ নানাভাবে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে অর্থ লোপাটের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মেসার্স লিজেন্ড ফাইভ অ্যাটায়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম গ্রেফতারের পরে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

জহিরুল ইসলাম মেসার্স লিজেন্ড ফাইভ অ্যাটায়ার্স লিমিটেডের নামে ৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া মোট ৭টি গার্মেন্টের ১৬ জন মালিকের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ কেলেংকারীসহ নানাভাবে সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে ৫৯৮ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ছিল। আসামীদের অনেকেই দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

Calendder

January 2020
M T W T F S S
« Dec    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

%d bloggers like this: