শিরোনাম

সোনারগাঁ জেএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ট্রলারে চড়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি

প্রকাশিত হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জেএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্র বেশ দূরে অবস্থিত। তাই শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, মেঘনা নদী বেষ্টিত ও সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয়, চরকিশোরগঞ্জ কাশেমনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মধ্য চরহোগলা উচ্চবিদ্যালয় এবং সড়কপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলেও পরীক্ষাকেন্দ্র দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় ও নৌপথে সময় কম লাগার কারণে গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেএসসি পরীক্ষা দিতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছে।

চরহোগলা উচ্চবিদ্যালয় ও চরকিশোরগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হোসেনপুর এসপি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয় ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈদ্যেরবাজার এনএএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার পাঁচটি মূল কেন্দ্র ও দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেন্যু বানিয়ে জেএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা সদর থেকে সড়কপথে সাত কিলোমিটার দূরত্বে হোসেনপুর এসপি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে মধ্য চরহোগলা উচ্চবিদ্যালয়ের ১২৫ জন এবং চরকিশোরগঞ্জ কাশেমনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪ জন।

এ ছাড়া বৈদ্যেরবাজার এনএএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয়ের ৯২ জন ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ১১১ জন শিক্ষার্থী।

নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয় ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এভাবেই ট্রলারে করে জেএসসি পরীক্ষা দিতে উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যায়। গত কালের ছবি ।

নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয় ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এভাবেই ট্রলারে করে জেএসসি পরীক্ষা দিতে উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রলারে নুনেরটেক এলাকায় নদীর মাঝখানে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ট্রলারে চড়ে গাদাগাদি করে বসে নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয় ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে বাড়িতে ফিরছে।

নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলে,;জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় হাতে রেখে আমরা পরীক্ষাকেন্দ্রে যাই। আমাদের ইউনিয়নে চারটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। যেকোনো একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কেন্দ্র হলে আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না ।
দুটি ট্রলারে চড়ে নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয় ও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছে।
গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন মিয়া বলে,এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর ২০১৭ সালে আমাদের পার্শ্ববর্তী বারদী স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেন্যু ছিল।

২০১৭ সালে আমাদের ইউনিয়নের চারটি উচ্চবিদ্যালয়ের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিয়েছিল। পরে ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেন্যু বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই ।

নুনেরটেক উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহ জালাল বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা-তদবির করেও বারদী ইউনিয়নের জন্য একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেন্যু নিতে পারিনি।

ফলে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান বলেন, সোনারগাঁয়ের চর অঞ্চলের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও অনেক কষ্ট করে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসে। দুর্ভোগের বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি।

Calendder

May 2020
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

%d bloggers like this: