রূপগঞ্জে ছাত্রদলের ২৩ বছরেও হয়নি কমিটি

উপজেলা বিএনপির অন্তঃকোন্দলে

প্রকাশিত হয়েছে

মাহবুব আলম প্রিয় ঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি‘র) রূপগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ তিন বিএনপি নেতার অন্তঃকোন্দলের কারনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই চাঙ্গাভাব।

ফলে ত্রিভাগা বলয়ে বিভক্ত এ দলের নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। শুধু তাই নয়, দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলে ১৯৯৫ এর পর প্রায় ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটির নেই খোঁজ।

তাই এর অন্যতম বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থা এ অঞ্চলে আরো নাজুক। কমিটি না হলেও দলের দুঃসময়ে কিছু নেতা কর্মী স্বেচ্চায় এ দলের হাল ধরে থাকায় কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা দিলেও রাজপথে তেমন ভ’মিকা রাখতে পারছেন বললেই চলে।

ফলে দীর্ঘ বছর ধরে এ অঞ্চলে বিএনপি কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এদিকে ছাত্র দলের নতুন কমিটি না হওয়ায় পুরনো কমিটির ছাত্ররা বয়স ভারে আজ আদু ভাইয়ে রূপ নিয়েছে ।

তবে তাদের মধ্যে কেউ বিয়ে করে সংসারী হয়ে ব্যবসায় প্রবেশ করেছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে নামে মাত্র সক্রিয় রয়েছেন। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সরকার দলীয় নেতাদের আনুগত্যের রয়েছে অভিযোগ।

আবার অনেকেই আদু ভাই খেতাবের ভয়ে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদল ও মূলদলে যোগ দিয়েছেন। তবে ছাত্রদলের কাগুজে কলমে নবীন ছাত্ররা কাজ করলেও নেই দলীয় স্বীকৃতি। জেলা ছাত্রদল ও একটি পক্ষের দায়সারা সাংগঠনিক পরিচালনায় এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ ইং সনে সাবেক প্রয়াত স্বরাস্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধূরীর জীবদ্দশায় তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারন সম্পাদক জাহিদ হাসান রুজেল উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি আনোয়ার ছাদাত সায়েম, সাধারন সম্পাদক আশরাফুল হক রিপনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা শাখা কমিটির অনুমোদন দেন।

তাদের সংগ্রামী পরিচালনা থাকাকালীন ২০০২ইং সনে ঘরোয়াভাবে পুনরায় একই কমিটি অনুমোদন নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালান। এরপর এ পর্যন্ত কোন কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা। এদিকে বয়স ও সাংসারিক কারনে ছাত্রদল থেকে সেচ্চাসেবক দলের জেলা সভাপতি হন আনোয়ার ছাদাত ছায়েম, আশরাফুল হক রিপন মুল দলের সহ সভাপতি পদে আসিন হন।

আর জেলার ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়ে সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান রনি ও সাধারন সম্পাদক পদে খাইরুল ইসলাম সজীবসহ তাদের প্যানেল হাল ধরেন । পরে ২০১৪ইং সনে রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার নতুন কমিটির আশ্বাস দিয়ে ভেঙ্গে দেয় পুরনো কমিটি।

এর আগে ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অঞ্চলের বিএনপিতে নমিনেশন বিতর্কে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক বিআরটিসি চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ত্রিবিভক্ত হয়ে পড়েন।

এর পর এ এলাকার বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রভাব পড়ে ছাত্র দলের ভেঙ্গে দেয়া কমিটিতেও। সে সময় ২০১৪ তে কমিটি ভেঙ্গে দিলেও কোন প্রকার আহবায়ক কিংবা ভারপ্রাপ্ত পদায়ন করা হয়নি। তবে তিন বলয়ে বিভক্ত হয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচী চালিয়ে যায় তারা। কিন্তু খাতা কলমে অনুমোদন ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের হাল ধরেন আবু মোহাম্মদ মাসুম, আজিম সরকার, সুলতান মাহমুদ, মেহেদী হাসান রিপন ও ওমর ফারুকসহ একাধিক গ্রূপ।

এদের মধ্যে আবু মোহাম্মদ মাসুম রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ২০০২এর কমিটিতে। পরে ইউনিয়ন সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দলীয় কর্মসূচী পালন করতে যেয়ে নাশকতার নামে রাজনৈতিক মামলার শিকার হন তিনি। এভাবে বিএনপির ডাকা হরতাল সফল করতে যেয়ে রূপসী, গাউছিয়ার একাধিকবার ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হামলা, মামলার শিকার হন।

দলীয় কর্মসূচী পালন করতে যেয়ে সরকার দলীয়দের ২৩টি বিভিন্ন অপরাধের নামে রাজনৈতিক মামলায় আটকে যান আবু মোহাম্মদ মাসুম। একই সময়ে ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদের নামে ৪০টি, আজিম সরকারের নামে ১৯টিসহ প্রতিটি ছাত্রদল নেতার নামে ১০টির অধিক মামলা ঝুলে যায়।

শুধু তাই নয়, দল ক্ষমতায় না থাকলেও দলীয় কর্মসূচী পালনে এসব ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা নিরলস রাজপথে কাজ করে আসছেন। কিন্তু মূল দলের নেতাদের গাফিলতির কারনে উপজেলা ছাত্র দলের কাগুজে কলমে নেই কমিটি কিংবা দলীয় স্বীকৃতি।

এতে ছাত্রদল ছাড়াও দলের নেতা কর্মীদের ক্ষোভের যেন শেষ নাই। ছাত্রদল নেতাদেও দাবী পদ পদবী রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলের জন্য জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও নুন্যতম স্বীকৃতি না পাওয়া দূর্ভাগ্যজনক।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্র দলের এক নেতা জানান, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নিয়ে দলের সিনিয়রা গড়িমসি করছেন। উপজেলা বিএনপির ও ইতিবাচক মনোভাবের অভাব। ফলে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কমিটি দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল নেতা আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, দলের চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে দলের চেয়ারপার্সন গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রাজপথে কাজ করার সুযোগ চাই।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব বলেন, ২৩ বছরেও কমিটি হয়নি এটা দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী মূল দলের কিছু নেতা। তবে আবু মোহাম্মদ মাসুমকে আহবায়ক করে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে । তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই এ এলাকার নতুন কমিটি প্রকাশ পাবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আওয়ামীলীগের হামলা, মামলায় জর্জরিত উপজেলা বিএনপি গোঁছাতে সময় ব্যয় হয়েছে। এর জন্য আমরা সিনিয়রাই দায়ী। দলের দুঃসময়ে যে সকল ছাত্রনেতারা দলের পাশে থেকে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে আবু মাসুমসহ অনেকের ভুমিকা রয়েছে।ঐসকল ত্যাগি কর্মীদের মুল্যায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যারা সক্রিয় রয়েছেন তারাই ঠাঁই পাবে ছাত্রদলের কমিটিতে ।

 

Calendder

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন