শিরোনাম

ভিপিএন কী, এবং কেন ব্যবহার করবেন

প্রকাশিত হয়েছে

আজকাল ভিপিএন এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই আজ যে কারণে ভিপিএন ব্যবহার করে সেই কারণে ভিপিএন এর জন্ম হয়নি। ভিপিএন তৈরী করা হয়েছিল ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রাইভেট নেটওয়ার্কগুলোকে নিরাপদে সংযুক্ত করার জন্য। ফেসবুক বন্ধের সুবাদে অনেকেই ভিপিএন শব্দটির সঙ্গে পরিচিত! কিন্তু এটি কী, আর কেনই বা ব্যবহার করা লাগে এবং উপকারিতা বা অপকারিতা কী কী – তেমন একটা প্রচলিত নয়।

ভিপিএন কী
এক ধরণের টানেল যা নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করে। ভিপিএন ইনস্টলকৃত ডিভাইস ও ইন্টারনেটের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে এই টানেল ব্যবহৃত হয়। বাইরে থেকে এই টানেল দিয়ে আদান-প্রদানকৃত তথ্য সংগ্রহ করা যায় না বলে এর ব্যবহার একদিকে যেমন নিরাপদ তেমনি অনেকে নিজের অবস্থান আড়াল রাখতে এবং নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট অ্যাকসেস পেতে এটি ব্যবহার করে থাকেন। ভিপিএন এর পূর্ণরূপ হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। এটি ইন্টারনেটে আপনার ও অন্য একটি নেটওয়ার্কের মাঝে সিকিউর কানেকশন তৈরী করে দেয়। অধিকাংশ মানুষ মূলত অঞ্চলভিত্তিক ব্লক করা সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার্থে এবং সেনসিটিভ কন্টেন্ট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে ট্রেস করা থেকে বাঁচাতেই ভিপিএন ব্যবহার করে।

ভিপিএন শ্রেণীবিভাগঃ

ভিপিএন কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যথাঃ

১। ট্রাফিক প্রটোকলে ব্যাবহারিত টানেল,
২। টানেল টারমিনাশন পয়েন্ট,
৩। নিরাপত্তা প্রদান এর টানেল,
৪। দূরবর্তী আক্সেস এর টানেল ।

একটি VPN সার্ভারে VPN ক্লায়েন্ট একটি বাহ্যিক নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারেন। ভিপিএন নেটওয়ার্ক ফ্রী কিনা বা প্রিমিয়াম হতে পারে। ফ্রী ভিপিএন নেটওয়ার্ক দিয়ে থাকে ওপেন ভিপিএন। তাছারা কিছু ভিপিএন নেটওয়ার্ক ফ্রী ও প্রিমিয়াম উভয় সার্ভিস দিয়ে থাকে। তবে ফ্রী অ্যাকাউন্ট এর ক্ষেত্রে লিমিটেড আক্সেস বরাদ্দ থাকে যাতে করে আপনি নির্দিষ্ট পরিমান ব্যান্ডউইথ ব্যাবহার করতে পারেন। যেমন, পিডি প্রক্স্যি ভিপিএন ।
ভিপিএন এর জন্য সবেচেয়ে নিরভর যোগ্য হল openVPN এটি একটি ওপেন সোর্স ভিপিএন টানেল । ওপেন ভিপিএন এর ওয়েব অ্যাড্রেসঃ www.OpenVpn.Org

যেসব কারণে ব্যবহৃত হয়
কেউ ঘরে বসে নিজের পিসি বা মোবাইলে ব্রাউজ করলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যেমন মোবাইল কোম্পানি বা আইএসপি চাইলেই আপনি কী করছেন না করছেন – তা জানতে বা দেখতে পারেন। এছাড়াও, একই পদ্ধতি অবলম্বনে হ্যাকাররাও টার্গেটের উপর নজর রাখে। ফলে, একদিকে যেমন ব্যাংকিংসহ অনলাইনে প্রবেশকৃত তথ্যাদি বেহাত হওয়ায় ঝুঁকি থাকে, তেমনি ব্যক্তি বিশেষের প্রাইভেসিও এতে নষ্ট হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যতীত অন্য যেকোনো তৃতীয় পক্ষের থেকে এমন ঝুঁকি থাকলে ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন। এতে ডাটা যেমন এনক্রিপ্টেড অবস্থায় আদান-প্রদান হয়, তেমনি গোপন থাকে ব্যবহারকারীর অবস্থানও! তবে, এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন তথা বিটিআরসি’র নীতিমালা অনুযায়ী কেবল সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরাই ভিপিএন ব্যবহার করতে পারবেন।

জিও রেস্ট্রিক্টেড কন্টেন্ট ব্রাউজ
ভিডিও ও অডিও স্ট্রিমিং সাইটগুলোতে নির্দিষ্ট দেশের জন্য স্পেসিফিক কন্টেন্টগুলো যে কোন দেশ থেকেই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) এর মাধ্যমে ব্রাউজ করতে পারবেন। যেমন ধরুন স্পটিফাই সাইট থেকে বাংলাদেশে বসে আপনি গান শুনতে পারবেন না। কিন্তু চাইলেই ইউএস বা অন্য কোন দেশ যেখানে স্পটিফাই এর সার্ভিস আছে সেসব দেশের আইপিযুক্ত সার্ভারে ভিপিএন দিয়ে কানেক্ট করে আপনিও স্পটিফাই সার্ভিস বাংলাদেশে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন।

নিজের তথ্য নিরাপদ রাখতে
আপনি যদি পাবলিক প্লেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ব্রাউজিং ডেটা সেইম নেটওয়ার্কে থাকা অন্যান্য মানুষ ট্রেস করতে পারে যদি সে এই বিষয়ে এক্সপার্ট হয়। এক্ষেত্রে আপনাকে বাঁচাবে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN)। আপনি ভিপিএন দিয়ে কানেক্ট করলে আপনার ওয়াইফাই সংযোগে কেউ আড়ি পাতলে কিংবা এমনকি আপনার আইএসপি নিজেও শুধু একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্কই দেখবে। এর ভিতরে যে সব ডেটা পাস হচ্ছে সেসবের নাগাল পাবে না।

নিজের প্রকৃত লোকেশন গোপন করতে
বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে আপনি যদি আপনার প্রকৃত লোকেশন গোপন রেখে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান তাহলে ভিপিএন আপনাকে সেই সুবিধা দিবে। এছাড়া আপনি হয়তো জানেন যে চীনে সরকারীভাবে অনেক সাইটই বন্ধ করে রাখা আছে (এমনকি ফেসবুকও)। চায়নিজরা ভিপিএন ব্যবহার করেই প্রয়োজন পড়লে সেসব সাইট ব্রাউজ করে পুরো ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকে।

টরেন্ট ব্যবহারের সময় আপনার গোপনীয়তা রক্ষার্থে
টরেন্ট থেকে ফাইল নামানোর ক্ষেত্রে ট্রেসিং এড়াতে VPN ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি আপনি যদি লিগ্যাল টরেন্ট ও ডাউনলোড করেন তাহলেও আপনার আইএসপি বেশি ট্রাফিকের ভয়ে আপনার কানেকশন স্লো করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ভিপিএন দিয়েই আপনি ট্রেস থেকে বাঁচতে পারেন।

কোন ভিপিএন ব্যবহার করবেন?
সুবিধা-অসুবিধা আলোচনার সঙ্গেই চলে আসে কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন – এই প্রসঙ্গ। তাঁদের জন্য প্রথমত জানিয়ে রাখা – বাংলাদেশে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার অবৈধ না হলেও সরকারি কিংবা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এর ব্যবহার আইনের পরিপন্থী। তাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন। আর, ব্যাংকিং বা অন্য কোনো একান্ত ডাটা আদান-প্রদানের জন্য হলে স্ব স্ব অ্যাপ স্টোর (অ্যান্ড্রয়েডের জন্য গুগল প্লে স্টোর, অ্যাপল ডিভাইসের জন্য আই টিউনস স্টোর ও উইন্ডোজ ডিভাইসের জন্য উইন্ডোজ স্টোর) থেকে রিভিউ ও রেটিং দেখে ভালো মানের ভিপিএন অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিপিএন কি নিরাপদ?
ভার্চুয়াল জগতে নিরাপত্তার ব্যাপারটি দুর্বোধ্য। কোনো কিছুই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কিন্তু বাজারের জনপ্রিয় VPN সেবাদাতাগুলোর প্রতি অনেকেই আস্থা রাখছেন। আবার নিজের তৈরি ভিপিএন নেটওয়ার্ক হলে তাও মন্দ হয় না- যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা “খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি” বলে মনে হতে পারে। অসাধু বা কম্প্রোমাইজড VPN নেটওয়ার্ক থেকে আপনার ডেটা বেহাত হওয়ার ঝুঁকি যে একদম নেই তা না। অনেক কোম্পানি ফ্রি আনলিমিটেড VPN দেয়ার কথা বলে, যা বুঝেশুনে না এগোলে ফাঁদ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সুতরাং একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে। তবে আপনার উচিত হবে ভিপিএন দিয়ে আপনার ফেসবুক , পেপাল অ্যাকাউন্ট এ লগিন করার ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে কারন আপনি যদি ভিপিএন ব্যাবহার করেন তাহলে ভিপিএন সারভার এ সেই লগ সেভ হয়। যদি ভিপিএন নেটওয়ার্ক টি স্কাম হয় তাহলে আপনার ইনফর্মেশন তারা কপি করতে পারে।

ছবি: গুগল

এখানে মন্তব্য করুন

Calendder

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন