শিরোনাম

প্রবাসীদের জীবনের না বলা কথা

প্রকাশিত হয়েছে

ওমান থেকে এ, আর কামাল শেখ ঃ ওমানের ছোহারের আম্মোক এলাকায় থাকেন চ্ট্রগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার আরমান মিয়া। তিনি ১৯ বছর বয়েসে ওমানে আসেন ভাগ্যকে পরির্বতন করা জন্য। তার বর্তমান বয়স ২৭ ছুই ছুই। প্রবাসে থাকা এ ছেলেটির কিছু কষ্টের কথা বলেন, এ প্রতিবেকের সাথে। তিনি বলেন,

একজন প্রবাসী যখন অকেজো হয়ে যায় তখনই প্রকাশ পায় পরিবার পরিজনের আসল রূপ, এর আগে নয়। দুহাত ভরে যতদিন দেবার সামর্থ থাকবে ঠিক ততদিন পরিবারের সবার কাছে প্রিয় ব্যক্তি আমি। আমাদেরকে সুখের মাইল ফলক হিসাবে দেখেন পরিবারের সবাই ।

দুঃখ কষ্ট যন্ত্রনা আমাদের নিত্যদিনের সংঙ্গী, এবিষয়টা পরিবারের কেউ কখনও শোনা বা দেখার প্রায়োজন মনে করেনি। খোলা চোখে মানুষ যা দেখাে তা দিয়েই আমাদেরকে সুখি মানুষ হিশাবে গন্য করা হয় সমাজে, অথচ আমাদের মনে গহীনে শুধু হাহাকার আর শুন্যতা।

এছাড়া একাকীত্ব প্রবাসী জীবন আমাদেকে মৃত্যুর আগে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে শিক্ষা দেয়, এই যন্ত্রনা কাউকে বুঝানো যায় না। কষ্টের পাহাড় বুকে ধরে রেখেছি আমরা।

সুখটা কি শুধু কাড়ি কাড়ি টাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ? হে কোন এক সময় আমিও তাই ভেবেছি যে টাকা পয়সা যখন হাতে আসবে, নিজের মত করে জীবনকে সাজাবো, কষ্ট ভরা জীবনে আর কোন কষ্ট থাকবে না।

সুখী সুন্দর একটা জীবনের জন্য টাকার প্রযোজনীয়তা অস্বী্কার করা যায় না তবে টাকাই যে সব সুখের মুলের মুল তা অনেকটা ভুল প্রমানিত হয়ে গেল।

শুধু টাকা দিয়েই সুখী সুন্দর জীবন রচনা করা যায় না। আমার মত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এক বাক্যে এক মত হবেন, টাকাই সব সমস্যার সমাধান নয়। বিশেষ করে প্রবাসী জীবনের বাস্তবতা তো এই কথা বলে না। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে দেখা স্বপ্নের সাথে আজকের এই প্রবাসের কোন যোগসূ্ত্র নেই।

কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যখানে আকাশ পাতাল ব্যাবধান, কল্পনার রাজ্যে বেহিসাবী হতে কোন বাধা নিষেধ নেই, স্বপ্ন দেখতে কোন টাকা পয়সা লাগে না তাই ইচ্ছেমত কল্পনার টাকার মাঝে জীবনের সব সুখ খুঁজেছি।

টাকা পয়সা ছাড়া একটা সুতাও  কিনা যায় না তাও জানি, তবে টাকার মাঝেই যে সব সুখ লুকিয়ে থাকে তাও সত্য নয়। স্ব্পন আর বাস্তবের ব্যাবধান না বুঝে সংসারের জন্য একটু সুখ আর হাসি কিনতে গিয়েই আমাদের জীবনের প্রতিটি সুখ প্রবাসের মাটিতে কেঁদে কেঁদে মরে যায় যা কেউ জানতে পারে না।

দেশের আপনজনকে এই কষ্টের কথা এই যন্ত্রনার কথা জানতে দেই না, যাদের সুখের জন্য এত ত্যাগ এত অবহেলা অনাদর সহ্য করেছি সেই ভালবাসার মানুষগুলোকে কেমন করে কষ্টের কথা বলা যায়?

কষ্ট আর যন্ত্রনার কথা বুক ভরা আশা নিয়ে বসে থাকা আপনজনকে বলা যায় না। যে সুখের জন্য এত দৌড় ঝাঁপ দিলাম, মা মাটি ছেড়ে অন্য এক ভূবনের বাসিন্দা হলাম,

সেই সুখ নামের সোনার হরিণ তো আমাদের জীবনে এলোনা। হিসাবের কিছু সুখ যাহা অবশিষ্ট ছিল তাও আস্তে আস্তে হাতছাড়া হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় এই জীবনটা থেমে গেছে, এই যন্ত্রনা কাউকে বুঝানো যায় না।

দিনরাত হাড়ভাংগা খাটুনি খেটে ঘরে ফিরে নিজেকে বড় অসহায় লাগে। মা-বাবা, ভাই, বোন, সন্তান, বৌ এর এতটুকু আদর ভালবাসার জন্য মন ছটপট করে মরে।

আমাদের ভাগ্য কি মা-বাবা আপনজনদের ভালবাসার নেই? প্রবাসে আমাদের কষ্টের সময় একটু সহানুভূতি দেখাবে। এমন কেউ নেই। একাকীত্বের বেদনায় আমাদের নয়নে যখন জল ঝরে কেউ আদর করে কাছে ডেকে এই জল মুছে দেয় না।

নয়নের জল নয়নেই শুকায়। প্রবাসী যান্ত্রিক জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আমরা প্রানে বেঁচে থাকি তবে এই বাঁচাকে বেঁচে থাকা বলা যায় না। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনের এক একটি মূহুর্ত অসম্ভব বেদনাদায়ক। এই কষ্ট বেদনা বিরহ সহ্য করে, আমাদেরকে নতুন ভাবে শক্তি সঞ্চয় করে, অনিচ্ছাকৃ্ত এই প্রবাস জীবনের সাথে সন্ধী করে বেঁচে থাকতে হয়।

কারন এক ঝাক ভালবাসার মানুষ রক্তেরচাপ বন্ধন যারা আমাদের দিকে চেয়ে আছে। আমাদের ত্যাগ আপনজনকে সুখী সুন্দর রাখতে পারলেই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া তাই সব দুঃখ যন্ত্রনা ভূ্লে দায়িত্ব পালনে মরিয়া হয়ে উঠি।

ভাইয়ের, বোনে, বৌ ছেলে মেয়ের আবদার পূ্রন করতে গিয়ে নিজেকে দেখার সময় থাকে না। মাসের শেষে দেশে টাকা পাঠাতে হয়, যতক্ষন বেঁচে থাকবো এই দায়িত্ব থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই। অনেক সময় মাসের শেষে টাকা পাঠানো সম্ভব হয় না, দেশ থেকে ফোনে পরিবারের কষ্টের কথা শুনে, প্রান হু হু করে কেঁদে উঠে, ধার দেনা করে সংসারের শান্তি ফিরিয়ে আনতে হয় যা একমাত্র প্রবাসীরাই জানেন।

এখানে মন্তব্য করুন

Calendder

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন