শিরোনাম

আমার ইচ্ছা করে……..পতিতার গল্প……

প্রকাশিত হয়েছে

এক পতিতার আত্মকাহিনী—–
(নিষ্ঠুর)  জীবনের গল্প–কোন গল্প নয় বাস্তব একটি ঘটনা তুলে ধরলাম।)

২০০৩ এর ঘটনা।। রাইসা সে তখন ক্লাস টেন এ পড়ে।। তার বাবা খুব ছোট বেলায় মারা গিয়েছিল।। তার মা অনেক কষ্টে তাকে এতোদূর পড়ালো। ছেলে ফার্নিচার এর মিস্ত্রী।। ভালোই ইনকাম করে।। রাইসার সাথে ওই ছেলের বিয়ে হল।। বিয়ের ২ বছর পর রাইসার একটা ছেলে হল।।

তখন ২০০৫ সাল। নভেম্বর এর এক সকালে তার জামাই তাকে রেখে ঢাকা তে চলে গেল।। সেই যে গেল আর কখনোই ফিরে আসে নি।। অনেক চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাওয়া যায় নি।।

এইদিকে রাইসা ও তার ছেলের জন্য খাওয়া দাওয়া খরচ, বাসা ভাড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ অনেক টাকা বাকি পড়ে যায়।।রাইসার যা জায়গা জমি ছিল ওইসব বিক্রি করে ধার কর্জ কিছুটা হলেও শোধ করল।।রাইসা তার মা কে তার ছেলের দেখা শোনা করার জন্য তাদের বাসায় নিয়ে আসলো।। বাসা হচ্ছে একটা বস্তির ছোটো একটা এক রুমের ঘর।। অনেক চেষ্টা করেও কোন কাজ পাই নি।।

২০০৭ এর জানুয়ারি মাস।। কোন এক সন্ধ্যায় ওই বাসার মালিক তার ঘরে এসে রাইসার কাছে বাকি বাসা ভাড়া চাইল।।রাইসা সেই টাকা দিতে অক্ষম ছিল।। ওইদিন রাইসার মা এবং তার ছেলেটি ঘরে ছিল না।। এর সুযোগে বাসার মালিক রাইসাকে ইচ্ছেমত ধর্ষণ করলো।। সেই থেকে রাইসার শুরু।। মালিক প্রতি মাসেই একবার না একবার রাইসা কে ধর্ষণ করতো।। তাতে রাইসার ভাড়া কিছুটা কমতো।।

রাইসার যা স্বর্ণ ছিল তা অল্প অল্প বিক্রি করে সে বাসা ভাড়া এবং আনুষাঙ্গিক খরচ বহন করতো।। একদিন সেই বস্তির এক মহিলার মাধ্যমে সে কক্সবাজার দুই রাত একটামানুষের সাথে থাকার অফার পায়।। সেই বাবদ রাইসা কে ১০০০০ টাকা দেয়ার কথা হয়।। সেই থেকে রাইসার পতিতা জীবন শুরু।। সে ঘরে তার মা কে বলে আমি একটা গার্মেন্টস এ চাকরি পাইছি।। ঢাকায় যেতে হবে দুইদিনের জন্য।।

সেইখানে প্রশিক্ষন দেয়া হবে।। দুইদিন পরেই চলে আসবো।।রাইসা ধীরে ধীরে পতিতা পেশায় জড়িয়ে গেল।। ২০১০ সাল।। সে তার ছেলেকে একটা ভালো কেজি স্কুলে ভর্তি করায়।। রাইসা প্রায় রাতেই ঘরে থাকে না।।। রাইসার মা জানে তার মেয়ে গার্মেন্টস এ নাইট শিফটে কাজ করে।। কাজীর দেউরির ওইখানে একটা সিনেমা হলের পাশেই সে ঘুরাঘুরি করতো।। কাস্টমার পেলে সে তাদের মনরঞ্জন এর জন্য চলে যেত।। ইচ্ছেমত ভোগ করতো রাইসার শরীরটাকে।।

রাইসা তার বিনিময়ে সামান্য কিছু টাকা পেত।। একবার নাকি একটা হোটেলে একসাথে ৫ জন তাকে ভোগ করে।। মানুষের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হল রাইসা।। রাইসা তার ছেলে বুকে টেনে নেয় না।। রাইসা তার শরীর কে অপবিত্র মনে করে।। একটা মায়ের জন্য এর চেয়ে আর কষ্টের কি হতে পারে??

এখনো তার মালিক তাকে নিয়মিত উপভোগ করে।। রাইসারা এইভাবেই সমাজে নিগৃহীত হয়।। এইসমাজের নিষ্ঠুরতা চরম উদাহারন হয় রাইসারা।। রাইসাদের জন্য শুধু করুনা জন্মায়। ভালোবাসা জন্মায় না।। রাইসারা আছে থাকবে।। এই সমাজ রাইসাদের ভালো থাকতে দিবে না।।

[এইটা বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।।চট্রগ্রাম এ পতিতাদের নিয়ে কাজ করা এক এনজিও কর্মীর ডাইরি থেকে নেয়া।।

পুনশ্চ– রাইসা এখন নাকি ঢাকাতে থাকে।। সেইখানে নাকি পতিতাদের রেইট ভালো।। তার ছেলেটাও হয়তো ভালো একটা স্কুলে পড়ালেখা করে।। কেও জানে না রাইসা কেমন আছে।।

এই নিষ্ঠুর সমাজ রাইসাদের পতিতা বানায় আবার এই সমাজ রাইসাদের ঘৃণার চোখে দেখে।।

এই গল্পের শেষ লাইন ছিল এইটা
বাহ!! পুরুষ সমাজ বাহ!!!]

লিখেছেন— স্বপ্নের পাহারাদার

এখানে মন্তব্য করুন

Calendder

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন