আজ সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুর মতিন চৌধুরির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

সুনশান রূপগঞ্জের চৌধুরি বাড়ি !

প্রকাশিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : একসময় বাড়ির সামনে থাকতো লোকজনের ভিড়ভাট্রা। থাকতো নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি। কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে সাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল নিষিদ্ধ। বাড়ির সামনের রাস্তায় লোক চলাচলে ছিল বিধিনিষেধ।

নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীদের তীক্ষ্ণ নজর ছিল বাড়িটির চারদিকে।ক্ষমতাধর এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতারাও সেখানে ঢুকতেন জবুথবু হয়ে।

সেই প্রবল প্রতাপ চৌধুরি বাড়ি এখন সুনশান নীরবতা। নীরব-নিথর হয়ে বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে রূপগঞ্জের কাঞ্চন কেন্দুয়ায়। মতিন চৌধুরি নেই। নেই বাড়ির জৌলুসও।

বলছি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরির কথা। আজ ( ৪ আগষ্ট ) আব্দুল মতিন চৌধুরির পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সবচেয়ে আলোচিত মন্ত্রীত্বের পদ পান মতিন চৌধুরি। সেসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন শুধু রূপগঞ্জ নয়, সারাদেশের অনেক নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত যেত এ বাড়ি থেকে। চলত নানা ধরণের তদবিরচর্চা।

এ কারণে রথী-মহারথীসহ তদবিরকারীদের আনাগোনা ছিল সেখানে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে বস্ত্রবন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৫ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই আব্দুল মতিন চৌধুরি ধীরে ধীরে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এরপর থেকেই বাড়িটি নীরব-নিস্তব্ধ হতে থাকে। ২০১২ সালের ৪ আগষ্ট আব্দুল মতিন চৌধুরি না ফেরার দেশে চলে যান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাড়িটির চারদিকে পিনপতন নীরবতা। নীরব-নিথর দাঁড়িয়ে আছে এক সময়কার বহুল আলোচিত রূপগঞ্জের চৌধুরি বাড়ি। বাড়ির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। অযন্ত আর অবহেলায় বাড়িটির শ্রীহীন অবস্থা। ভবনে শ্যাওলা বাসা বেঁধেছে।

চারদিকে মাকড়সার ঝাল। মনে হয় যেনো ভূতুড়ে বাড়ি। স্থানীয়রা বলেন, আলো ঝলমল চাকচিক্যে ভরা আলোচিত চৌধুরি বাড়িটি এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। এখন এ বাড়িতে প্রবেশের জন্য কেউ ভিড় করেন না। রাজনীতি এখন কোনভাবেই স্পর্শ করতে পারছে না বাড়িটিকে।

একসময় প্রায় ২০ জনের মতো পাইক-পেয়াদা বাড়িটির দায়িত্বে ছিলো। এখন একজন লোক নিয়োজিত রয়েছেন যিনি মাঝে-মাঝে খোঁজখজর নেন। চিরচেনা সেই চৌধুরি বাড়িটিকে এখন আর যেন চেনাই যায় না।

স্থানীয় লোকজন আক্ষেপের সুরে বলেন, ওনি কোন দলের সেটা বড় বিষয় নয়। ওনি ছিলেন রূপগঞ্জের গর্ব। দুই দুইবার মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। তিনি মন্ত্রী থাকার কারণে এ বাড়িতে অন্য মন্ত্রী, প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা আসতো।

প্রয়াত মতিন চৌধুরির ভাতিজা মিলন চৌধুরি বলেন, চাচা থাকাকালীন এ বাড়িতে ভিড় লেগেই থাকতো। সপ্তাহের বেশ সময় ওনি এলাকার বাড়িতে সময় দিতেন। এ বাড়িতে কতো মন্ত্রী-এমপি আসতো। আজ চাচায় নেই। তাই আমাদেরও আসা হয় না। বাড়িটি এখন শূণ্য।

Calendder

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন