আজ লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসব শুরু

লাঙ্গলবন্দ স্নানের চমকপ্রদ কাহিনী

প্রকাশিত হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধি : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যাস্নানের তীর্থভূমি ব্রহ্মপুত্র নদের লাঙ্গলবন্দে আজ শুক্রবার (১২ এপ্রিল) স্নানোৎসব শুরু হচ্ছে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের তিথি অনুযায়ী ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১১টা ৫মিনিট থেকে শুরু হয়ে পরদিন শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৫৫মিনিট ২২ সেকেন্ড তিথি। পাপস্খলনের এই উৎসবে প্রতিবছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো লাখো মানুষ এসে এখানে সমবেত হয়।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, স্নানোৎসব শান্তিপূর্ণ ভাবে পালনের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উৎসবের দুইদিন এলাকায় ১৬শ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ৮টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৩৭টি সিসি টিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ঘাট ও রাস্তা নজরদারীর আওতায় রাখা হবে। একটি টিম সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করবে। এর জন্য একটি মনিটরিং রুম ও সাংবাদিকদের জন্য একটি রুম করা হবে। এছাড়াও চেক পোস্ট, নারী পুলিশ ও আনসার থাকবে, যাতে করে কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

এফবিসিসিআইর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে একটি সভা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম ও মোবাইল কোর্ট টিমসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

লাঙ্গলবন্দ স্নানের চমকপ্রদ কাহিনী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং নদের উৎপত্তি সর্ম্পর্কে চমৎকার এক কাহিনী প্রচলিত আছে। হিন্দু পুরান মতে, ত্রেতাযুগের সূচনাকালে মগধ রাজ্যে ভাগীরথীর উপনদী কৌশিকীর তীর ঘেঁষে এক সমৃদ্ধ নগরী ছিল, যার নাম ভোজকোট।

এ নগরীতে ঋষি জমদগ্নির পাঁচ পুত্র সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তানের নাম রুষন্নন্ত, দ্বিতীয় পুত্রের নাম সুষেণ, তৃতীয় পুত্রের নাম বসু, চতুর্থ পুত্রের নাম বিশ্বাসুর, পরশুরাম ছিলেন সবার ছোট। পরশুরামের জন্মকালে বিশ্বজুড়ে চলছিল মহাসঙ্কট।

একদিন পরশুরামের মা রেণুকা দেবী জল আনতে গঙ্গার তীরে যান। সেখানে পদ্মমালী (মতান্তরে চিত্ররথ) নামক গন্ধবরাজ স্ত্রীসহ জলবিহার করছিলেন (মতান্তরে অপ্সরী গণসহ)। পদ্মমালীর রূপ এবং তাদের সমবেত জলবিহারের দৃশ্য রেণুকা দেবীকে এমনভাবে মোহিত করে যে, তিনি তন্ময় হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।

অন্যদিকে ঋষি জমদগ্নির হোমবেলা পেরিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে তার মোটেও খেয়াল নেই। সম্বিত ফিরে পেয়ে রেণুকা দেবী কলস ভরে ঋষি জমদগ্নির সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ান। তপোবলে ঋষি জমদগ্নি সবকিছু জানতে পেরে রেগে গিয়ে ছেলেদের মাকে হত্যার আদেশ দেন।

প্রথম চার ছেলে মাকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু পরশুরাম পিতার আদেশে মা এবং আদেশ পালন না করা ভাইদের কুঠার দিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে পিতা খুশি হয়ে বর দিতে চাইলে তিনি মা এবং ভাইদের প্রাণ ফিরে চান। তাতেই রাজি হন ঋষি জমদগ্নি। কিন্তু মাতৃহত্যার পাপে পরশুরামের হাতে কুঠার লেগেই থাকে। অনেক চেষ্টা করেও সে কুঠার খসাতে পারেন না তিনি।

এক পর্যায়ে পিতার কথামত পরশুরাম তীর্থে তীর্থে ঘুরতে লাগলেন। শেষে ভারতবর্ষের সব তীর্থ ঘুরে ব্রহ্মপুত্র পুণ্যজলে স্নান করে তার হাতের কুঠার খসে যায়। পরশুরাম মনে মনে ভাবেন, এই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে মানুষ খুব উপকৃত হবে।

তাই তিনি হাতের খসে যাওয়া কুঠারকে লাঙ্গলে রূপান্তর করে পাথর কেটে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে মর্ত্যলোকের সমভূমিতে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। লাঙ্গল দিয়ে সমভূমির বুক চিরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন তিনি। ক্রমাগত ভূমি কর্ষণজনিত শ্রমে পরশুরাম ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করেন।

এই জন্য এই স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ। এরপর এই জলধারা কোমল মাটির বুক চিরে ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে মিশেছে। পরবর্তীকালে এই মিলিত ধারা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে।

এখানে মন্তব্য করুন

Calendder

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

এখানে বিজ্ঞাপন দিন

%d bloggers like this: